মেইন ম্যেনু

পর্যটকে বেসামাল কক্সবাজার, মোবাইল নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ তিনদিনের টানা ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। অনেক আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে শহরের চার শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ ও রিসোর্ট। ঘুমানোর জায়গা খোঁজে পর্যটকেরা ঘুরছে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে। কোথাও থাকার জায়গা খালি পাচ্ছে না তাঁরা। শহর থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরের আবাসিক হোটেলগুলোতেও থাকার জায়গা হচ্ছে না। পর্যটকের চাপে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্কে। নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় একজন অন্যজনের সঙ্গে ঠিক মতো যোগাযোগ করতে পারছে না। তবে কলাতলি কেন্দ্রিক অধিকাংশ আবাসিক হোটেলে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ ভাড়া বাড়িয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছে পর্যটকেরা।

শুধু কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত নয়। পাথুরে বিচ ইনানী, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, মহেশখালীর আদিনাথ, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দেশি-বিদেশি পর্যটকে ভরে গেছে।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে আসা আব্দুর রসুল ও তার স্ত্রী শারমিন আকতার জানান, হোটেলে থাকার জায়গা মিলছে না। অনেক ঘোরাঘুরি করে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর সহযোগিতায় কোনো মতে একটি রুম ম্যানেজ করতে সক্ষম হই।

তিনি বলেন, আগে অনেকবার কক্সবাজারে এসেছি। থাকার জায়গা নিয়ে এরকম বিড়ম্বনায় আর পড়তে হয়নি।

এদিকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুই দিন ধরে চলছে আলোকসজ্জা ও রাস্তার দু’পাশে লাইটিংয়ের কাজ। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ। কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশও।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরের চার শতাধিক আবাসিক হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। রুম না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে অনেকেই। আশানুরঊপ পর্যটক আগমনে আমরা খুশি।

ঢাকার আশুলিয়ার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান নিপু ২১ ফেব্রুয়ারি পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসতে চেয়েছিলেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি রুম বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করেন কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে। কিন্তু কক্সবাজারের একটি হোটেল, মোটেল, রিসোর্টেরই কক্ষ খালি নেই। আগে থেকেই সব বুকিং হয়ে গেছে। ফলে কক্সবাজার আসার পরিকল্পনা বাদ দিতে হচ্ছে নিপুকে।

কেবল মাহফুজুর রহমান নিপু নয়, কক্সবাজারে বেড়াতে আসতে ইচ্ছুক এমন অনেককেই এখন বিপাকে পড়তে হচ্ছে। কোনো হোটেল-মোটেলে সিট খালি পাচ্ছেন না তারা। তারকামানের হোটেল সি-গালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এম.এ হাশিম বলেন, হোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই। প্রায় এক মাস আগেই সব রুম বুকিং হয়ে গেছে। তবু প্রতিদিন রুম চেয়ে অনেকে ফোন করেন।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, হোটেল ব্যবসায়ীদের পর্যটকদের সেবার মান বাড়ানোসহ সবধরনের সহযোগিতা প্রদানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেভাবে তারা প্রস্তুতি নিয়েছে।ঢাকাটাইমস