মেইন ম্যেনু

পাঁচ বছরে ১৫৪৮ পোশাক কারখানা বন্ধ!

অবকাঠামোগত দুর্বলতা, কমপ্লায়েন্স না থাকা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার অভাবে গত ৫ বছরে দেশের ১ হাজার ৫৪৮ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে রানা প্লাজা বা তাজরীন দুর্ঘটনার পর কর্মপরিবেশ না থাকায় মাত্র দুই বছরে বন্ধ হয়েছে ২৭১ পোশাক কারখানা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ষাটের দশকে মাত্র একটি গার্মেন্টস দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি শুরু হয়। ২০১২-১৩ সালে দেশে পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮৭৬টি। এর বিপরীতে গত দুই বছরে দেশে নতুন চালু হয়েছে ২৬১ গার্মেন্টস।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে বিজিএমইএর সদস্য ৪ হাজার ৩৮৭ পোশাক কারখানা। এর মধ্যে সচল ৩ হাজার ৫১টি। বাকিগুলো রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

এত কারখানা বন্ধের কারণ জানতে চাইলে বিজিএমইএর একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এক সময় ছিল ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের প্রথম পছন্দ ছিল গার্মেন্টস। কিন্তু গত চার-পাঁচ বছরে ব্যবসায়ীরা গার্মেন্টস ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এর পেছনে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বারবার পোশাক খাতের দুর্ঘটনা ও পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে দায়ী করছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন, মজুরি ও নিরাপত্তা ব্যয় বাড়তে থাকায় বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তৈরি পোশাকশিল্প। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের মূল্য কমে গেছে। তা ছাড়া অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনজনিত কারণে কারখানা বন্ধসহ বেশ কিছু মালিক ব্যবসা ছেড়েছে।

নতুন ব্যবসায়ী কমে আসার পেছনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ীর বিনিয়োগে আসার ক্ষেত্রে যে ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা দরকার তা পাচ্ছে না। তাই যে পরিমাণ গার্মেন্টস কমছে তার বিপরীতে নতুন গার্মেন্টস চালু হচ্ছে না।

আশির দশকে সফল ব্যবসায়ী ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের মূল্য কমেছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ইউরোপে কমেছে ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। ক্রেতারা মূল্য না বাড়ালেও অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও ন্যাশনাল অ্যাকশন প্লানের সুপারিশ অনুযায়ী কারখানার সংস্কার কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দুর্বল অবকাঠামো, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ শ্রমিকের সংকট মোকাবিলা করে রপ্তানি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকের অতিরিক্ত সুদ, বিভিন্ন দেশে ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস দেশের তৈরি পোশাককে কঠিন সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ কারণেই নতুন করে ব্যবসায় আসছে না অনেক বিনিয়োগকারী।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেশে বিনিয়োগের বড় বাধা। এ ছাড়া বর্তমানে দেশে নন-কমপ্লায়েন্স বা উন্নত কর্মপরিবেশ ছাড়া কারখানা পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই কারখানা টিকিয়ে রাখতে সঠিক কর্মপরিবেশ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একজন ব্যবসায়ীকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে তা না থাকলে সামনে ব্যবসায়ী আরও কমবে বলে মনে করেন তিনি।