মেইন ম্যেনু

পাকা চুল কালো করার ওষুধ আবিষ্কার!

অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা দূর করতে বেশিরভাগ মানুষ আশ্রয় নেন নানা রকম রাসায়নিক পদার্থে। চুলের রঙ পরিবর্তন সাময়িক স্বস্তি আসলেও দীর্ঘমেয়াদী অস্বস্তি থেকে যায়। তবে আশার কথা হলো এখন আর চুলে রঙ নয়, কেবল ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে চুলের কালো রঙ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এমনটাই দাকি করেছে গবেষকরা।

ব্রিটেনের ব্রাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারিন শেলারয়টার এবং উত্তর-পূর্বঞ্চলীয় জার্মানির গ্রিফসওয়াল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দেহের এ প্রক্রিয়া ঠেকানোর ওষুধ আবিষ্কার করেছেন। এফএএসইবি সাময়িকীতে গবেষণাটি পত্রটি প্রকাশ করা হয়।

সাময়িকীর মতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সাদা চুলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নানা ওষুধ বের হয়েছে। কিন্তু কার্যকরী ফল না পাওয়া গেলেও এবার গবেষকরা তাদের আবিষ্কারে সফল হয়েছেন। মূলত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের গোড়ায় জমা হতে থাকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড নামের একটি রাসায়নিক উপাদান। চুলের গোড়ায় জমা হওয়া এই হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড শেষ পর্যন্ত ব্লিচিং উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং চুলের আসল রং নষ্ট করে দেয়। অধ্যাপক কারিন শেলারয়টার ও তার গবেষক দল এখন চুলের গোড়া থেকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সরিয়ে দেওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। তবে, এ প্রক্রিয়ায় চুলের রং সাদা হওয়া পুরোপুরি ঠেকানো যাবে কিনা তা এখনো পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়নি।

শ্বেতী আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর ওপর তাঁদের এই চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা চালান ব্রিটেনের ব্রাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারিন শেলারয়টার এবং উত্তর-পূর্বঞ্চলীয় জার্মানির গ্রিফসওয়াল্ড বিশ্ববিদ্যালয়। মেলানোসাইট নামে ত্বকে এক জাতীয় কোষকলা আছে। এসব কোষকলা মেলানিন নামে একটি রঞ্জক বা রং সৃষ্টিকারী উপাদান তৈরি করে বলেই মানব ত্বকের স্বাভাবিক রংটি দেখতে পাই। শ্বেতী হলে এই রং সৃষ্টি করার উপাদান আর দেহে উৎপন্ন হয় না।

এ কারণে ত্বকে একটি অস্বাভাবিক রং দেখতে পাওয়া যায়। আর একেই শ্বেতী বলা হয়। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, তাদের আবিষ্কৃত ওষুধ খাওয়ানোর পর ফিরে এসেছে শ্বেতী রোগে আক্রান্ত রোগীর ত্বক ও চোখের পাপড়ির স্বাভাবিক রং। এফএএসইবি সাময়িকীর সম্পাদক এ ওষুধ প্রসঙ্গে লিখেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সাদা চুলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নানা ওষুধ বের হয়েছে। এই প্রথম একটি চিকিৎসা বের হলো যা সংকটের মূলে পৌঁছাতে পেরেছে। যাদের চুল পাকছে তাদের জন্য এটা একটা সুখবর এবং আরও সুখবর হলো এ চিকিৎসায় শ্বেতী রোগও সারছে।