মেইন ম্যেনু

পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলও আমন্ত্রণ পেয়েছে আ.লীগের সম্মেলনে

আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও আমন্ত্রণ পেয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে তাদের একটি প্রতিনিধি দল সম্মেলনে যোগ দেবেন-বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন। আমন্ত্রণ পাওয়া পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিনিধিও আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানোর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

এছাড়াও চীন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কম্বেডিয়াসহ ৭০টি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের দলীয় প্যাডে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বিদেশি রাজনৈতিক দলগুলোকে। আর সম্মেলন প্রস্তুতি উপলক্ষে অভ্যর্থনা সাব কমিটির সদস্য হিসাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আমন্ত্রণপত্রগুলো বিদেশে সরবরাহ করেন। নির্ভরযোগ্য দুই জন নেতা জানান, পাকিস্তানসহ প্রায় ৭০টি দেশের রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিদেশি আমন্ত্রণ পত্রগুলোতে স্বাক্ষর করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে পাঠিয়ে দেন। আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি ও অভ্যর্থনা সাব কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন এমন কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ভারতের বেশি সংখ্যক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আগামী ২২ /২৩ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন।

অভ্যর্থনা কমিটিতে রয়েছেন এমন কয়েকজন নেতা বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজিপি, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, পশ্চিম বঙ্গের তৃণমুল ও ত্রিপুরার মানিক সরকারের দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে আসবেন নিশ্চিত করেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দলসহ আরও কয়েকটি দল ও সংগঠন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বলে ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন। জানাগেছে, ভারতের বিজেপি ও কংগ্রেসের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশে আনতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিদেশীদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসাবে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত সাহা উপস্থিত থাকার বিষয়টি ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে আরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের কোন নেতার। বিদেশি অতিথি হিসাবে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি, ও কনজারভেটিব পার্টির নেতারাও আসবেন এ সম্মেলনে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফারুক খান বলেন, প্রতিবেশী সবগুলো দেশসহ আমরা বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আমাদের সম্মেলন পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েছি। অনেকগুলো দেশ আমন্ত্রণ পত্র গ্রহণ করে বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। পাকিস্তানের কয়টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বললাম তো প্রতিবেশী ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

পাকিস্তানকে দাওয়াত দেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক নেতা বলেন, পাকিস্তানের কোন কোন রাজনৈতিক দল আমাদের মুক্তিযদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তাছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তো ছিন্ন হয়নি। দেশটির সঙ্গে কুটনীতিক সম্পর্ক আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরীতা নয়। আওয়ামী লীগ এই নীতিতে বিশ্বাস করেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভ্যর্থনা সাব কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘এ ব্যাপারে কথা বলবেন আমাদের কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব। আমি কোন কথা বলব না। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাননি অভ্যর্থনা কমিটির আরেক সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুও।’

বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন এমন কয়েকজন নেতা আরও জানান, পাকিস্তানসহ এশিয়ার অনেকগুলো দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা ও তাদের প্রতিনিধি সম্মেলনে আসার ব্যাপারে ইচ্ছা পোষণ করে আমাদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। ফলে বিদেশি অতিথিদের আসার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ায় ঢাকার পাঁচতারা হোটেলগুলোতে তাদের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বুকিংও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রস্তুতি কমিটিতে সদস্য হিসাবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বলেন, বিদেশী অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা অথবা তাদের পক্ষের প্রতিনিধি দল আমাদের সম্মেলনে আসার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন। ফলে তাদের ত্রুটিমুক্ত আতিথেয়তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের অভ্যর্থনা কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।