মেইন ম্যেনু

পাকিস্তানে হাসপাতালে হামলার দায় স্বীকার জামাত-উল-আহরারের

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি হাসপাতালে বোমা বিস্ফোরণে ৭০ জন নিহতের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে জামাত-উল-আহরার নামে দেশটির এক জঙ্গি সংগঠন।

গতকাল সোমবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার সিভিল হাসপাতালের ওই হামলায় আরো ১২০ জন আহত হয়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, পাকিস্তান তালেবান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া একটি সংগঠন জামাত-উল-আহরার।

বার্তা সংস্থা এএফপি গতকাল সোমবার জানায়, হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই আইনজীবী ও সাংবাদিক। বেলুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিলাল আনওয়ার কাসিকে হত্যার প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা হাসাপাতালে জড়ো হয়েছিলেন।

বেলুচিস্তান প্রদেশের জ্যেষ্ঠ প্রশাসক আকবার হারিফাল পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনকে বলেন, গতকাল সোমবার সকালে পৃথক এক ঘটনায় গুলিতে নিহত হন বিলাল আনওয়ার কাসি। এর পর হাসপাতালে জড়ো হন অনেক আইনজীবী ও সাংবাদিক। বিলাল আনওয়ার কাসিকে জরুরি বিভাগে রাখা হয়েছিল। জরুরি বিভাগের ফটকেই অবস্থান করছিলেন আইনজীবী ও সাংবাদিকরা। সেখানেই বোমা বিস্ফোরিত হয়।

এর আগে পাকিস্তানের জিয়ো টিভি জানায়, সোমবার সকালে কোয়েটার মূল আদালত ভবনের কাছে বন্দুকধারীর গুলিত নিহত হন বিলাল আনওয়ার কাসি। পরে তাঁর মরদেহ কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বেলুচিস্তান প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি ডনকে বলেন, একজন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলুচিস্তানের পুলিশও একই তথ্য জানিয়েছে। হামলার পরপরই গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

হাসপাতালে হামলার পাশাপাশি বিলাল কাসিকে গুলি করে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জামাত-উল-আহরার।

দুই বছর আগে পাকিস্তানি তালেবান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একদল জঙ্গি নিজেদের জামাত-উল-আহরার (অর্থ দাঁড়ায় স্বাধীন যোদ্ধাদের দল) ঘোষণা করে। এর পর থেকে পাকিস্তানে কয়েকটি বড় হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা।

চলতি বছরের ইস্টার সানেডেতে একটি পার্কে জামাত-উল-আহরারের এক হামলায় শিশুসহ ৭০ জন নিহত হয়।

সোমবার হামলার পর পরই কোয়েটায় যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ। নওয়াজ শরিফ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান।