মেইন ম্যেনু

পাক সেনাদের বাসায় দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতেন ওসমান ফারুক

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের সরকারি বাসভবনে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে আড্ডা দিতেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক।

পাক সেনাদের দাওয়াত করে খাওয়াতেন নিজের বাসায়। মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে গঠিত ট্রাইব্যুনালের একটি সূত্রে এসব বিষয় জানা গেছে।

বুধবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতির তথ্য জানানোর সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক জানান, ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আছে। এরই মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনাল।

এসময় সানাউল হক বলেন, একাত্তরে সংগঠিত মানবতা বিরোধী অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন অধ্যাপকের নাম পাওয়া গেছে। যারা স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে ড. ওসমান ফারুকের নাম রয়েছে। তখন তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।

ড. ওসমান ফারুকের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া হাইধনখালী গ্রামে। তিনি করিমগঞ্জ-তাড়াইল নির্বাচনী এলাকার বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা।

বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চাকরি ছেড়ে ১৯৯১ সালে তিনি দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার বাবা ড. ওসমান গণি ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানি ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ভিসি।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ড. ওসমান ফারুক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সরকারি বাসায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাইব্যুনালের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষক গোপনে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ড. ওসমান ফারুক ছিলেন তাদের একজন।

সূত্র মতে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে ড. এম ওসমান ফারুক, তার এক ভগ্নিপতিসহ ১১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। সম্প্রতি সেই রিপোর্টের সূত্র ধরে তদন্তে নামে যুদ্ধপরাধ তদন্ত সংস্থা।

মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে গঠিত ট্রাইব্যুনালের সূত্র মতে ড. ওসমান ফারুক মুক্তিযুদ্ধের সময় গোপনে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতেন। সেনা কর্মকর্তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। তার বাসায় পাকিস্তান আর্মির কর্মকর্তাদের দাওয়াত করে খাওয়াতেন। আলবদর বাহিনী গঠনে গোপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা করতেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, তার ছোট ভাই আমেরিকার নাগরিক ড. ওসমান সিদ্দিকী মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হওয়া সাকা চৌধুরীর মামলা চলার সময় তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এফিডেভিট করে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেন করেছিলেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তার অাবেদন গ্রহণ করেনি।

জানা গেছে, ড. ওসমান ফারুকসহ ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়কার ১১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার দুপুরে ঢাকায় সাংবাদিদের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের একজন কর্মকর্তা ‘তদন্ত চলছে’ বলে তথ্য দেয়ার পর একই দিন বিকেলে একটি তদন্ত দল ময়মনসিংহ গেছেন। ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনোয়ারা বেগমের নেতৃত্বে তদন্ত দলটি বিকেলে ময়মনসিংহে গেছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়কারী সানাউল হক বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ড. ওসমান ফারুকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত সংস্থা তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এসব বিষয়ে বিকেলে ড. ওসমান ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এসবের কিছুই জানিনা। সবকিছু মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং কোনঠাসা করার জন্য এটি সরকারের একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এর বেশি আর কোনো মন্তব্য না করেই মোবাইল সংযোগ কেটে দেন বিএনপি নেতা ড. এম ওসমান ফারুক।