মেইন ম্যেনু

পাখি-কিরণমালার জন্য ১৩ তরুণীর আত্মহত্যা

এর আগে ভারতীয় নায়কের জন্য তরুণীর আত্মহত্যা কিংবা আত্মাহত্যা চেষ্টার খবর শোনা গেছে। কিন্তু এবার টিভি সিরিয়াল দেখে বিভিন্ন পোষাক কেনার প্রতিযোগীতা। এ পোষাক না পেয়ে অনেক স্থানেই ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা।

জানা গেছে, ভারতীয় সিরিয়াল ‘কিরণ মালা’ দেখে ‘কিরণমালা’ এবং ‘বোঝে না, সে বোঝে না’ নাটকের পাখি চরিত্রের ‘পাখি জামা’ পেয়ে কয়েক বছরে আত্মহত্যা করেছে ১৩ তরুনী। কিরণমালার জন্য যারা আত্মহত্যা করেছে এদের মধ্যে রয়েছেন মাদারিপুরের কালকিনির মিনারা (২৭), লক্ষ্মিপুরের রামগঞ্জের তাছলিামা আক্তার (১২) ও বগুড়ার শেরপুরে সাবিনা খাতুন (১৪) নামে এক কিশোরী।

এর আগে ভারতীয় সিরিয়াল ‘বোঝে না, সে বোঝে না’ নাটকের পাখি চরিত্রের ‘পাখি জামা’ না পেয়ে গত বছর ঈদে আত্মহত্যা করেছে অন্তত ১০ জন। এরা হলেন, নওগার মিম আক্তার (১৪), গাইবান্ধার নূর জাহান (১০), দিনাজপুরের জেসমিন আরা (১৭), হবিগঞ্জে পাখি (১৩), চাপাইনবাবগঞ্জে হালিমা (১২), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার ফুলমালা (১৫), চুয়াডাঙ্গার শিলা খাতুন (১৫) এবং রাজধানীর গুলশানে জেরিন ইসলাম বৃষ্টি (১৭) নামে এক তরুনী। এছাড়া স্ত্রীকে পাখি জামা দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেন শেরপুরে শাহিন নামের এক যুবক। অন্যদিকে মেয়ের জামা সংগ্রহ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন কুষ্টিায় আলেয়া বেগম নামে এক গৃহবধু। আর স্বামী পাখি জামা কিনে না দিলে তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান খুলনার শারমিন আক্তার।

আর এভাবে আকাশ সংস্কৃতি বিশেষ করে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন যেন বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে প্রতিনিয়ত। আর রাজধানীসহ বিভিন্ন বিপনী বিতান ছেয়ে গেছে ভারতীয় এসব পোষাকে। এ জন্য মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশীয় পোষাক শিল্প।

এরও আগে শিশুদের জন্য ভারতীয় চ্যানেলে প্রচারিত কার্টুন ‘ডোরেমন’ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা নিয়ে আলোচনা হয় জাতীয় সংসদেও। পরে শিশুদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট এবং তাদের মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে তা বন্ধে বিজ্ঞপ্তি দেয় সরকার।

সম্প্রতি হাইকোর্টে এ নিয়ে একটি রিট হয়েছে। হয়তো আদালতের নির্দেশে বন্ধ এই চ্যাণেলগুলো বন্ধ হতে পারে।

অন্যদিকে দিকে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলার সম্প্রচার বন্ধে গত বছরের ৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলি হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। পরে প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছরের ১৯ অক্টোবর ওই তিন টিভি চ্যানেল বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এ রুল শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ধার্য রয়েছে।

এবাপারে নাট্য শিল্পি সমিতির সভাপতি তারিক আনাম বলেন, চাইলেইতো আর চ্যানেল বন্ধ করা যাবে না। কারণ এর পেছেনে অনেক কিছুই জড়িত। এর জন্য আগে আমাদের প্রোডাক্ট উন্নত করতে হবে। যাতে দর্শক ওইসব চ্যানেল না দেখে। আর চ্যানেল বন্ধ করলে ভালো হলে তা করা উচিত। তবে এর জন্য সরকারের পাশা-পাশি সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।