মেইন ম্যেনু

পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে জেল-জরিমানা

এখন থেকে সর্বত্র পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের পাটশিল্প, পাটকল, পাটকল শ্রমিক ও কৃষক সর্বোপরি পরিবেশ বাঁচানোর লক্ষ্যেই সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রণীত ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’-এ পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড—এই উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে দায়ীদের। অথচ ২০১০ সালে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলক ব্যাবহারের নির্দেশ সংবলিত পৃথক আইন ও ২০১৩ সালে পৃথক বিধিমালা করলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি এতদিনেও।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালের প্রণীত আইনটি ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর ৫৯ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর এসআরও নম্বর ৩৪৪-আইন/ ২০১৩ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অনেকের অভিযোগ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী এবং পলিথিন কারখানার মালিকদের দাপটেই সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল পাটের ব্যাগ ব্যাবহার বাধ্যতামূলক করা সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অবশেষে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি—এই ৬টি পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে, এমন নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আইন বাস্তবায়নের জন্য সময়ও বেঁধে দিয়েছে সরকার। প্রথম দফায় আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে এ আইন বাস্তবায়নে অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করলেও এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের বিষয়ে রাইস মিল ও অটোরাইস মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। ওই বৈঠকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পাটের তৈরি বস্তা ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য রাইস মিল ও অটোরাইস মিল মালিকদের সময়-সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সভায় করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং রাইস মিল ও অটোরাইস মিল মালিকদের সমন্বয়ে পাটের তৈরি বস্তার দাম নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠক শেষে মির্জা আজম জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় বস্তার সরবরাহ লাইন ঠিক রাখতে, বস্তার আকার ও মূল্য নির্ধারণ করতে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি দেশের কোন জেলায় কত পরিমাণ বস্তার প্রয়োজন হবে, তাও ঠিক করবে। জানা গেছে, ওই কমিটি (০৮ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিঝিলস্থ এফবিসিসিআই ভবনে বৈঠকও করেছে।

মির্জা আজম জানিয়েছেন, ওই কমিটিতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), এফবিসিসিআই ও ধান-চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনকারী ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পাটের বস্তা বিতরণ ব্যবস্থা মনিটর করা হবে। এর জন্য একটি টিম থাকবে। পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক এ বিষয়টি দেখভাল করবেন। এ কমিটিতেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও থাকবেন। বছরে দুবার বস্তার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

আইনে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন ৫ কেজি পরিমাণ ধান, গম ও ভুট্টার ক্ষেত্রে অবশ্যই পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। সার ও চিনির ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ’পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ অনুসারে এ নির্দেশনা দিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। ধারা অনুযায়ী এ আইন অমান্য করলে হবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের জেল দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এ রায় হতে পারে উভয় দণ্ডের। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে হবে প্রথম রায়ের দ্বিগুণ।

দেখা গেছে, ২০১০ সালের ৫৩ নম্বর আইনের ধারা-১৪-এ বলা হয়েছে, পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করে কৃত্রিম মোড়ক দিয়ে কোনও পণ্য বা পণ্য সামগ্রী মোড়কজাত করলে তা আইনত দণ্ডনীয় হবে।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ অনুযায়ী দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সার নির্বিশেষে ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা দিয়ে মোড়কজাত করতে হবে।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০-এর ৫ ধারা ও ৭ (৩) ধারা অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ও ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি ও একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ধান, চাল, গম ও সারের জন্য সরকার ও করপোরেশন কর্তৃক পাটের বস্তা কেনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের ৫০ শতাংশ বিজেএমসি ও বাকি ৫০ শতাংশ বেসরকারি খাত থেকে কিনতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারিভাবে আমদানিকরা চাল ও গম মোড়কজাত করণের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে। এই শর্ত লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি) ও এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইআরসি) বাতিল করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

বিষয়গুলো অবহিত করে দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে জানিয়ে মির্জা আজম বলেছেন, এ আইন লঙ্ঘনকারীকে আর সহ্য করা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের পর প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ধান, চাল, গম ও ভুট্টা প্যাকেজিং করতে দেওয়া হবে না। এ আইন বাস্তবায়নের ওপর পাটশিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

মির্জা আজম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি মোড়কজাত করণে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর করা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সুকৌশলে এ দেশের পাটশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলা ট্রিবিউন