মেইন ম্যেনু

পাটের মোড়ক ব্যবহারে সফলতার পথে সাভার

সারাদেশে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ এর বাস্তবায়নের প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে সাভার। এলাকায় প্লাস্টিকে বস্তায় ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি সংরক্ষণ ও পরিবহন হচ্ছে না। তবে আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এই ৬টি পণ্যে শতভাগ পাটের বস্তার ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পযর্ন্ত এ অভিযান চলবে বলে জানালেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

রোববার সাভার নামাবাজার ও আমিন বাজারে আইন বাস্তবায়নে পরিচালিত ভ্রম্যমান আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুবায়ের রহমান এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন ।

এসময় মির্জা আজম বলেন, ‘ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি এ ছয়টি পণ্য যে কোনো পরিমাণ সংরক্ষণ ও পরিবহনে বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা ব্যবহারের নির্দেশনা জারি করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এর আগে, ওই ছয়টি পণ্য ২০ কেজি বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ হলে পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল। বর্তমান নির্দেশনা জারির ফলে এখন থেকে এ ছয়টি পণ্য যে কোনো পরিমান ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাটের ব্যাগ বা বস্তা ব্যবহার করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় রোধের লক্ষ্যে ১৯৮২ সাল থেকেই বৃক্ষরোপন আন্দোলন শুরু করেন। দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের অতীত গৌরব ফিরিয়ে এনে পরিবেশবান্ধব দেশ গড়তে তারই নির্দেশে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ এর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।’ পরিবেশ রক্ষায় জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পুরষ্কারপ্রাপ্তি ও তার সেই কৃতিত্বের ফসল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ বাস্তবায়নের ওভেন পলি প্রপাইল (ডব্লিউপিপি) ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিরোধী প্লাস্টিক এবং পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের অতীত গৌরব ফিরিয়ে এনে পরিবেশবান্ধব দেশ গড়তে হবে।’

‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ এর ধারা ১৪ অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ অপরাধ পুনঃসংগঠিত হলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।’ তবে কাউকে দণ্ড দিতে হচ্ছে না। সবাই আইন পালনে সচেতনভাবে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন মির্জা আজম।

তিনি বলেন, ‘গত ৩০ নভেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সময়ে পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়িরা ঠিকমত পাটের বস্তা পাচ্ছেন কিনা, কোথাও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে কিনা এবং কোথাও পাটের বস্তা মজুদ হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখা হচ্ছে।’ দেশের কোথাও পাটের বস্তার সঙ্কট নেই বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ অভিযান মনিটরিংয়ের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবদের সমন্বয়ে ১০টি পৃথক মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী দুই মাসে যে পরিমাণ পাটের ব্যাগ বা বস্তার প্রয়োজন হবে তা ইতোমধ্যে মজুদ রয়েছে। এসব সরবরাহ করবে রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান বিজেএসসি।’

বর্তমান সরকারের গৃহিত নীতিমালা ও পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে পাট ও বস্ত্রখাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয় সফল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি সংরক্ষণ ও পরিবহনে পাটের বস্তার বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন – ২০১০ শতভাগ সফলতার পথে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় । এ ৬টি পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে পাটের বস্তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে রোববার ‘মোবাইল কোর্ট’ অভিযান চালানো হয় সাভার নামাবাজর ও আমিন বাজার চালের আঁড়ত এলাকায়। ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। সাভার নামাবাজার চালের আঁড়তে পাটের বস্তা ব্যবহার হচ্ছে শতভাগ। তবে আমিন বাজার এলাকাতে পুরাতন প্লাষ্টিকের বস্তায় চাল সংরক্ষণ করা ছিল বিধায় প্রায় ৫০০ প্লাস্টিকের বস্তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমান আদালত ।

উল্লেখ, ‘কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, ব্যাংক ঋণ সুবিধা বন্ধ, লাইসেন্স বাতিল, আইআরসি বা ইআরসি বাতিলের বিধান রেখে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে বিশেষ অভিযান চালু হয়েছে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ এর ধারা ১৪ অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ অপরাধ পুনঃসংগঠিত হলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া ছয়টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে ব্যাংকঋণ সুবিধা দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে।

একইসঙ্গে চাতাল মিল মালিকগণ পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে খাদ্য মন্ত্রণালয় তাদের লাইসেন্স বাতিল করবে। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানিকালে পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইআরসি বা ইআরসি বাতিল করবে।