মেইন ম্যেনু

‘পাঠ্যক্রম দিলে কওমি সনদের স্বীকৃতি’

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর জন্য এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম ঠিক করে দিতে আলেম ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীতে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেম ওলামাদের সংগঠন জমিআতুল উলামা আয়োজিত উলামা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

সরকারের শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যার ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ১৩ হাজার ছয়শরও বেশি। এসব মাদ্রাসায় ১৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

কিন্তু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখায় সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সম্প্রতি কিছু কিছু মাদ্রামায় বাংলা-ইংরেজি বা প্রযুক্তি শিক্ষা চালু হলেও শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে দুর্বলতা প্রমাণিত। আর সরকারি স্বীকৃতি না থাকায় মাদ্রাসার সনদের গ্রহনযোগ্যতা নেই। ফলে ১৪ বছর পড়াশোনা শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের সনদ কোনো কাজেই লাগে না। সরকারি বা ভালো চাকরিতে নিয়োগ পান না শিক্ষার্থী। বেশিরভাগই হয় ব্যবসা, নয়তো মসজিদ-মাদ্রাসায় অল্প বেতনে চাকরি করেন।

কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকরা। কিন্তু তাদের দাবি পূরণ নিয়ে নানা সময় আশ্বাস দেয়া হলেও অগ্রগতি হয়নি।

কওমিমাদ্রাসাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দলগুলোর মোর্চা ইসলামী ঐক্যাজোট ২০০১ সালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় কওমি মাদ্রাসার সনদ দেয়ার শর্তে। কিন্তু চারদলীয় জোট সরকার আমলে সে উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পরে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে এই সনদের স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেয়। আলেম ওলামাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর ২০১২ সালে একটি কমিশনও গঠন করে দেয় সরকার। কিন্তু বহু ভাগে বিভক্ত আলেমরা সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ এখনও জমা দিতে পারেননি।

এই বিষয়টির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবন জীবিকার পথ করে দিতে হবে। আমরা কমিশন করে দিয়েছি কিন্তু তারা (আলেমরা) একমত হতে পারেননি। এখন আবার সময় এসেছে, সবাইকে এক হতে হবে। আপনারা যারাই একমত হতে চান, একমত হন, আমরা সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করে দেবো।’

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিতে করা কমিশনকে প্রতিবেদন দিতে আরও সময় দেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আপনারা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন। আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হবে। এখান থেকে সনদ দেয়া হবে। সবাই মিলে একটা পাঠ্যক্রম ঠিক করেন। এটা তো লাগবেই। নইলে কিসের ভিত্তিতে সনদ দেবো?’

কেবল কওমি মাদ্রাসা নয়, সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ছাত্রদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যমূলক করা হয়েছে। স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীরা ধর্মের সঠিক শিক্ষা পাবে।’

কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের স্বীকৃতির পাশাপাশি ইমাম, মোয়াজ্জিনদের কল্যাণেও সরকার আরও উদ্যোগ নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইমাম, মোয়াজ্জিনরা বয়স হয়ে গেলে দুর্ভোগে পড়েন। তাদের জন্য আগেই একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে দিয়েছি। এটাকে আরও কার্যকর করা দরকার যেন সব মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনরা সহায়তা পান।’



« (পূর্বের সংবাদ)