মেইন ম্যেনু

পাত্রের বন্ধুদের ঠাট্টার কারণে বিয়ে ভেঙে দিলেন কনে

পাত্র অঙ্কে কাঁচা হওয়ায় সম্প্রতি বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এটাওয়ার পাত্রী লাভলি৷ আর শুক্রবার রাতে গাজিয়াবাদের এক তরুণী বিয়ের আসর ছেড়ে চলে গেলেন আত্মসম্মানে আঘাত লাগায়৷ মালাবদলের সময় বরের বন্ধুরা বরকে কাঁধে উঠিয়ে অনেক উঁচুতে তুলে দিয়েছিলেন৷ কনের পক্ষে অত উঁচুতে ওঠা সম্ভব হয়নি৷ তাও তিনি চেষ্টা করেছিলেন তিনবার৷ এরপরই মেজাজ হারান কনে৷ এভাবে হেনস্তার পর বিয়ে করার কোনও দরকার নেই বলেই বেরিয়ে যান বিবাহ মণ্ডপ ছেড়ে৷ ঠাট্টা করতে গিয়ে যে বিয়ে ভেঙে যাবে ভাবতে পারেননি কেউই৷ বর ও তাঁর বন্ধুরা বহু অনুনয় করলেও মন গলেনি কনের৷

দীর্ঘ প্রেমের পর বিয়ে করবেন, ঠিক করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের ওই তরুণী ও তাঁর প্রেমিক৷ দু’জনেই পুণের বহুজাতিক সংস্থার কর্মী৷ অফিসেই আলাপ, ভালবাসা৷ পুণের বাসিন্দা ওই যুবক বরযাত্রী নিয়ে বিয়ের তিনদিন আগেই গাজিয়াবাদে এসে পৌঁছেছিলেন৷ নাচ-গান-হুল্লোড়েজমে উঠেছিল বিয়েবাড়ি৷ কিন্তু মালা বদলের ঠিক প্রাক্-মুহূর্তে কেস ওলটপালট৷ বিয়ের সময় মজা করার জন্য শুরু হয় বর ও কনে পক্ষের লড়াই৷ কে বেশি উঁচুতে উঠতে পারে?

যে উঁচুতে উঠবে তার দর বেশি৷ যে নিচে থাকবে তাকে মালা পরানোর জন্য সাধ্য-সাধনা করতে হবে৷ এমনই হুল্লোড় চলছিল দু’পক্ষের মধ্যে৷ বরকে তাঁর হোমরাচোমরা চেহারার বন্ধুরা ছাঁদনাতলায় কাঁধে তুলে নিতেই কনের হাত পৌঁছয়নি তাঁর গলায়৷ তাও মালা হাতে লাফিয়েছিলেন৷ তিন-বার৷ এরপর আর ধৈর্যে কুলোয়নি৷ বরের বন্ধুদের ঔদ্ধত্য মনে লেগেছিল ‘স্বভিমানী’ কনের৷ এরপরই বর ও তাঁর বন্ধুদের রসিকতায় বিরক্ত হয়ে ‘বিয়ের ময়দান’ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি৷ ততক্ষণে বরের হাসি মিলিয়েছে৷

ক্ষমা চাওয়া আর বোঝানোর পালা চলে দফায় দফায়৷ তরুণীর রাগ ভাঙাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন তাঁরা৷ মেয়ের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হতে দেয়নি কনেপক্ষ৷ বরযাত্রী মালাবদল নিয়ে অসভ্যতা করেছে বলে পুলিশকে অভিযোগ জানায় তারা৷ বিয়ে বাতিল করে তাঁদের অপমান করা হয়েছে, পাল্টা অভিযোগ তোলে বরপক্ষ৷ শেষপর্যন্ত অবশ্য বরকেই পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে৷ বিবাহ মণ্ডপ সাজানো ও অন্যান্য খরচের পুরো টাকাটাই বরযাত্রীর থেকে আদায় করে নেন কনের বাড়ির লোকজন৷