মেইন ম্যেনু

পানামা পেপারস: চাপে নওয়াজ শরিফ

মোওস্যাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে অর্থ পাচারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলের নামও উঠে আসায় নিজ দেশে চাপে রয়েছেন তিনি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়, নওয়াজ শরিফ একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করেছেন। বিরোধী দলের চাপের কারণেই এমনটি করতে হয়েছে তাকে। তাছাড়া অফসোরে এ্যাকাউন্ট থাকা বা সেখানকার কোনো কোম্পানির মালিক হওয়া পাকিস্তানের বিদ্যমান আইনে অবৈধ নয়।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘কখনোই জাতির বিশ্বাসের সঙ্গে বেইমানি করিনি।’

পাকিস্তান গণমাধ্যমগুলো এখন পানামা পেপারসকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে এর ফলে নওয়াজ শরিফের আসন না নড়লেও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তিনি।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আস্কারি রিজভি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘নওয়াজ শরিফকে চাপ প্রয়োগ করতে এখন বিরোধীদলের সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।’

পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা ইমরান খান টুইটারে লেখেন, ‘মানুষ সাধারণত পানামার অফসোরে এ্যাকাউন্ট খোলেন হয় বাজেপথে উপার্জিত অর্থকে লুকাতে অথবা কর ফাঁকি দিতে অথবা দুটোই করতে।’

মঙ্গলবার টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে নওয়াজ শরিফ বলেন, আমি আমার জাতিকে সত্যটাই দেখাতে চাই এবং প্রত্যেক পাকিস্তানি নাগরিকেরই জানা দরকার এই অপবাদের পেছনের আসল ঘটনা।

অফসোরের লেনদেনে নওয়াজের ছেলে হাসান ও হোসাইন এবং মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফের নাম আসে। পারিবারিক এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা কোনো ধরণের বেআইনী কাজ করেনি। তাদের ব্যবসায় সম্পূর্ণ বৈধ এবং অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মরিয়ম তার টুইটারে জানান, যে সমস্ত তথ্য বের হয়েছে সেখানে কোথাও অবৈধ কিছুর কথা বলা হয়নি। কয়েকটা গণমাধ্যমের ইচ্ছাকৃত আচরণের ফলে এমন গুঞ্জন আসছে।

২০১৩ সালে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নতুন করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সমস্যার সময়েই এই পানমা পেপারস ফাঁস অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মতো হয়েছে নওয়াজের জন্য। ২০১৩ সাল থেকেই তার দলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ একাধিকবার আসলেও প্রতিবারই তিনি তা অস্বীকার করেন।

পানামা অফসোরের অভিযোগ তাই খুব বড় ধরনের সংকটেই ফেলতে পারে নওয়াজ শরিফকে। এর আগে ইমরান খান ২০১৪ সালে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার প্রতিবাদে মাসব্যপী কর্মসূচি দিয়েছিলেন।

তাছাড়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিষয়টিও নওয়াজকে ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে। বিদেশনীতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফকে পাকিস্তানের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী বিবেচনা করা হয়।