মেইন ম্যেনু

পানামা পেপার্স : ক্যামেরনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে শনিবার এ বিক্ষোভ হয়।

পানামা পেপার্স ফাঁস হওয়ার পর কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য চাপে পড়েন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। তার বাবা আইয়ান (মৃত) ক্যামেরনের প্রতিষ্ঠিত অফশোর কোম্পানি থেকে সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেন।

ক্যামেরনের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ ওঠেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ক্যামেরন সৎ ও স্বচ্ছ ব্যক্তি নন। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।

ডেইলি মেইল অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের অনেকে ‘পানামা টুপি’ পরে আসেন। তাদের হাতে ব্যানার, প্লাকার্ডে লেখা ‘ক্যামেরন যাও’। মুহুর্মুহু স্লোগান ওঠে, ‘ক্যামেরনকে পদত্যাগ করতেই হবে/কর ফাঁকি দেওয়া অপরাধ।’

লন্ডনের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হওয়া বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। অনলাইনে ‘#রিজাইন ক্যামেরন’ এবং ‘#ক্লোজ ট্যাক্স লুপহোলস’- কে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ সংগঠিত হয়। কর ফাঁকির দায়ে আইনসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্দুরের পদত্যাগের ঘটনাকে সামনে এনে ক্যামেরনবিরোধী প্রচার চলতে থাকে। ২০০৮ সালে আইল্যান্ডে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল, সিগমুন্দুরের পরিবার তখন কর ফাঁকির অর্থ সুবিধা ভোগ করছিল।

কয়েক দিনের ব্যবধানে এই প্রচার বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন সিআইএর গোপন কার্যক্রমের তথ্য ফাঁসকারী এডওয়ার্ড ¯েœাডেন, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লিলি অ্যালেন।

এর আগে ক্যামেরন বলেন, আমার গত ছয় বছরের কর দেওয়ার হিসাব আমি প্রকাশ করব। এ জাতীয় যেকোনো বিষয় আমি সামাল দেব। তিনি আরো বলেন, ২০১০ সাল পর্যন্ত বাবার অফশোর কোম্পানি থেকে আমি ৩১ হাজার পাউন্ড নিয়েছি।

তবে তার বাবার নামে যাচ্ছেতাই বলাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যামেরন। তার ভাষ্য, এ জন্য কাউকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই। যা হয়েছে, তার জন্য আমিই দায়ী। আমিই তার মুখোমুখি হব। এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে। আমি শিক্ষা নেব। উল্লেখ্য, ক্যামেরনের বাবা ২০১০ সালে মারা যান।

যুক্তরাজ্যের বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি বার্নার্ড করবিন বলেছেন, জনগণ তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি জনগণকে ভুল পথে চালিত করছেন।

পানামা পেপার্স প্রকাশিত হওয়ার পর জরিপ সংস্থা ‘ইউগভ’ ক্যামেরনের ওপর জনমত যাচাই করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৩৪ শতাংশ লোক মনে করছেন, ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঠিক কাজ করছেন। কিন্তু ৫৬ শতাংশ মনে করছেন, ক্যামেরন স্পষ্টবাদী ও স্বচ্ছ নন।

এদিকে এই জরিপে দেখা গেছে, ক্যামেরনের চেয়ে করবিনকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছেন জনগণ। তাদের মতে, বিরোধীনেতা হিসেবে করবিন তার কাজ ঠিকমতো করছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্যামেরন তা করছেন না।