মেইন ম্যেনু

পানি সংকটে কয়েক হাজার বন্দি

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেল কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় বাগান এলাকার কয়েকটি ভবনে পানি সরবরাহ শুরু করলেও কয়েকশ সেল জেলে এ সরবরাহ একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার কারাগারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানায়, বুধবার রাতে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত কোনো পানি পায়নি কারাগারে বসবাসকারী কয়েক হাজার বন্দি। শুক্রবার সকাল থেকে বিকল্প পাইপের মাধ্যমে বাগানবাড়ি এলাকার কয়েকটি ভবনে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কয়েকশ সেল জেলে এরকম পানি সরবরাহ একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট ১৫টির মতো ভবন রয়েছে। যেগুলোতে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিসহ হাজতিরা বাস করেন। এর মধ্যে ৬টি ভবনে শতাধিক সেল জেল রয়েছে। বাগানবাড়ির শাপলা, পদ্মা, যমুনা ও স্কুলঘর ভবনে বিকল্প ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ শুরু হলেও বাকী ভবনগুলোতে কোনরকম পানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। কবে নাগাদ পানি সরবরাহ কিংবা আদৌ সরবরাহ হবে কিনা তা কেউ বলতে পারছে না।

জেলগেটের বাইরে স্বজনদের অনেকেই আলোচনা করছেন, জেলের ভেতর পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। কেউ কেউ পানি কিনে ভেতরে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। তবে এক্ষেত্রে কারারক্ষীরা টাকা কামানোর রাস্তা পেয়েছেন। এক লিটারের একটি পানির বোতলের মূল্য ২০টাকা। সেই বোতলটি ভেতরে পৌঁছানোর জন্য আবার ২০ টাকা নিচ্ছেন। এমন অভিযোগ করেছেন পানি পাঠানো কয়েকজন স্বজন।

জেলগেটের বাইরে আরিফ নামে একজন মুদি দোকানদার জানান, গত দুই দিনে অনেক পানি বিক্রি হয়েছে। গত এক মাসে এতো পানি বিক্রি হয়নি। এটি অতি প্রয়োজনীয় তাই কিনছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারারক্ষী বলেন, ‘কারাগারের ভেতরে পানির মূল পাম্পটি নষ্ট হয়ে গেছে। সেটি ঠিক করতে সময়ের ব্যাপার। এ ছাড়া মাটির ভেতরে অনেক পাইপও নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী মাসে কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। সেজন্য হয়তো কর্তৃপক্ষ তাগাদা দিচ্ছেন না। তবে শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকটি ভবনে বিকল্প পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবিরকে ফোন করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে কারাগারের ভেতরে পানির কোনো সমস্যা নেই। যা ছিল তা সমাধান করা হয়েছে।