মেইন ম্যেনু

পাবনায় নিহত সেবকের গোপালগঞ্জের বাড়িতে শোকের মাতম

পাবনায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়ুয়াকংশুর গ্রামে এখন চলছে শোকের মাতম।

ওই গ্রামের রসিক লাল পাণ্ডের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ৪র্থ সন্তান ছিলেন নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে। ৩০/৩৫ বছর ধরে তিনি পাবনায় শ্রী শ্রী অনুকুল চন্দ্র সৎসংঙ্গ আশ্রমের সেবক হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী-সন্তানরাও তার সঙ্গে থাকতেন।

সাধাসিধে লোক হিসাবে পরিচিত এই লোকটি মানুষের জন্য, ধর্মের জন্য আত্মনিয়োগ করেছেন সারাটা জীবন। সেই লোকটাকে কুপিয়ে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা— এটা যেমন পরিবারের লোকজন মেনে নিতে পারছেন না, তেমনি এলাকাবাসীও।

শুক্রবার (১০ জুন) ভোর ৫টার দিকে পাবনা মানসিক হাসপাতালের উত্তর পাশে প্রধান গেটে নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

পাণ্ডের স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তারা কোনভাবেই যেন এ হত্যাকাণ্ডকে মেনে নিতে পারছেন না। এমন একজন সাধাসিধে লোককে কেন বা কি কারণে হত্যা করা হবে এটি তাদের বোধগম্য নয়। নিহতের বড় ছেলে স্কুলশিক্ষক নন্দ দুলাল পাণ্ডে জানান, সারাদেশে সাম্প্রতিককালে সাধু বা ধর্ম যাজকদেরকে বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছিল। তিনিও চেয়েছিলেন বাবাকে সতর্ক করতে। কিন্তু তার আগেই দুর্বৃত্তদের হামলায় তার বাবাকে মারা যেতে হয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের বড় ভাই সত্য রঞ্জন পাণ্ডে, ছোট ভাই সুরঞ্জিত পাণ্ডে, ছোট বোন পদ্ম বল জানান, তাদের ভাই ছিলেন খুবই ভদ্র। কারো সাথে তার কোন বিবাদ ছিল না। জীবনের বেশীর ভাগ সময়েই তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে পাবনায় বসবাস করতেন। ৮/১০ দিন আগে একবার তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। গ্রামের বাড়িতে উৎপাদিত রবি ফসল তোলার জন্য তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। স্ত্রী আর ছোট মেয়েকে রেখে তিনি একা চলে যান পাবনায় তার কর্মস্থলে। দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর তিনি পাবনায় থাকেন। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে তার চাকরির সুবাদে গোপালগঞ্জেই থাকেন। ছোট মেয়ে পাবনা থেকে ডিগ্রী পাস করে এখন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পড়ছেন।