মেইন ম্যেনু

পাবলিক টয়লেট সেখানে নেই, সত্যিকারের দেশ প্রেম সেখানে বিপন্ন

ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈল পৌরসভা মুক্তা চৌত্তরে গণশৌচাগারের অভাবে সাধারণ মানুষের বেহালদশা। মানুষ যেন পশু পাখির মত যেখানে সেখানে মল মুত্র ত্যাগ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী মতে, উপজেলা পরিষদের পৌরমার্কেটের পার্শে একটি ছোট শৌচাগার থাকলেও রাণীশংকৈল বন্দরের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ঢাকা গামী কোচ কাউন্টার, আবাসিক এলাকা, আবাসিক ম্যাচ, স্কুল প্রতিষ্ঠান সহ অনেক মসজিদ ও মন্দির রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের চলাফেরা করতে দেখা যায়। কিন্তু হরিপুর, কাঁঠালডাঙ্গী, মাসানগাঁও, নাথনগর, ধর্মগড়, কাশিপুর, রাতোর, গোগর, খঞ্জনা, সহদোর, বাচোর, ভাংবাড়িসহ প্রায় বিভিন্ন গ্রাম হতে মহিলা সহ সাধারণ মানুষ শহরের জীবনের প্রয়োজনে ছুটে আসে। যাতে প্রয়োজন হয়ে পরে একটি শৌচাগারের।

জানা গেছে- শিবদিঘী থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার শহরের মধ্যে কয়েক’শ দোকান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে কোথাও কোন পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। দেখা গেছে বালিয়াডাঙ্গী এক্সপ্রেস এর কর্মচারী আব্দুল লতিফকে একজন গ্রামের সাধারণ মহিলা কাউন্টারে টয়লেট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- টয়লেটে তালা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- প্রতি মাসে আমাদের টয়লেট পরিষ্কার করতে শ’ পাচেক টাকা গুনতে হয়। যা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাড়ায়। এই দায়িত্ব প্রশাসনের হওয়া উচিত!।

তিনি বলেন, যেখানে সরকার সেনিটেশন ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সেখানে রাণীশংকৈলের মত এলাকায় এত গুণি মানুষ থাকতে এমন একটি সেনিটেশন ব্যবস্থার দুভোর্গ চরমে কেন?

শ্রমিক নেতা আনসার আলী বলেন, প্রতিনিয়ত শতাধিক অচেনা মানুষ পুরুষ/মহিলা টয়লেটের খোঁজে বাস কাউন্টারে আসেন। অনেকের কাছে প্রশ্রয় পান আবার অনেকে ফেরত পাঠিয়ে দেন। কারণ টয়লেটের অবস্থা বেগতিক। যার ফলে কিছুই করা থাকে না।

রাণীশংকৈলের প্রাণ কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত বন্দর এলাকা। এ এলাকার অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী, গুনি মানুষ, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের ছড়া ছড়ি অথচ গ্রাম থেকে আসা একজন অসহায় ভদ্র মহিলা কিংবা পুরুষ টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন মেটাতে পারে না। এমন অসহায়ত্ব ভয়ংকর দুর্ভোগের কথা এলাকাবাসী কার কাছে সমাধানের জন্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য ধরনা দিবে?