মেইন ম্যেনু

পাহাড় ধস : তবু ঝুঁকির সঙ্গে বসবাস

স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও চট্টগ্রামের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ঠেকাতে পারছে না জেলা প্রশাসন।

এবার বর্ষা মৌসুম শরুর আগেই অবৈধ বসতি চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হলেও ঈদের পরের রাতে ধসের শিকার হয়ে পাঁচ শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, পাহাড় মালিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিষেধ না মেনে ঘর তুলে কম টাকায় ভাড়া দিচ্ছে। আর স্থায়ী পুর্নবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকি জেনেও সেসব ঘরে থাকছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে নগরীর ২৮টি পাহাড়ে ৬৬৬টি পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের তালিকা করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নগরীর লালখানবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইশ মতো পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু উচ্ছেদ হওয়া এসব পরিবারের কেউ কেউ কয়েকদিন পর স্থানীয় প্রভাশালীদের সহায়তায় আবারও পাহাড়ের নিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন বলে লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির মধ্যে শনিবার ঈদের পর গভীর রাতে লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকার পোড়া কলোনিতে পাহাড়ের পাশের দেয়াল ধসে তিনজন এবং বায়েজিদে ট্যাংকির পাহাড় ধসে আমিন কলোনিতে তিনজনের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বর্ষার শুরুতে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালালেও রোজার সময় মানবিক বিবেচনায় আর উচ্ছেদ করা হয়নি।

“ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের উচ্ছেদের পর স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে না পারলে তারা ফিরে আসবেই। অল্প ভাড়ার কারণে নিম্ন আয়ের লোকজন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও এসব পাহাড়ে বাস করেন।”

এদের স্থায়ী পুর্নবাসনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “মেয়রের সহায়তায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর প্রতিবছরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তাতে মৃত্যু ঠেকানো যায়নি।

চট্টগ্রামের পরিবেশ আন্দোলন সংগঠন পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরিফ চৌহান বলেন, “কেবল উচ্ছেদ করলেই হবে না, যারা অবৈধভাবে পাহাড়ের এসব ঘর থেকে ভাড়া নিচ্ছে, সেই প্রভাবশালীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পাহাড়ে মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাবে না।”

জেলা প্রশাসক বলেন, শনিবার রাতের ঘটনার পর রোববার লালখান বাজার ও বায়েজিদ এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০০ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় যারা ঝুঁকি নিয়ে আছেন তাদেরও সরে যেতে বলা হয়েছে।

তারপরও যারা সরে যাবেন না, সোমবার থেকে তাদের উচ্ছেদে আবার অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি।