মেইন ম্যেনু

পায়রায় পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়ছে ডিসেম্বরেই

সকল জল্পনা আর আলোচনার অবসান ঘটিয়ে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দরে ডিসেম্বরের শুরুতেই নোঙর করতে যাচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজ। তবে প্রাথমিকভাবে বহির্নোঙ্গর থেকে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে লাইটারিং করে পণ্য গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হবে। নির্মাণাধীন এ বন্দর পর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে ২০১৮ সালে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিয়ষটি জানিয়েছেন। যিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৩ সাল থেকে।

রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বন্দর দিয়ে যেহারে পণ্য আমদানি রপ্তানি হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে দেশের স্বার্থেই পায়রা সমুদ্র বন্দরের কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষে আমরা পটুয়াখালীর রামনাবাদ পাড়ের মধ্যবর্তী টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়াতে এ বন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। সমীক্ষা যাচাইয়ে দেখা গেছে, গভীরতা বিবেচনায় পায়রা হবে এশিযা মহাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তর বন্দর। এখানে ১৫ মিটার পর্যন্ত গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পাচ্ছে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ।’

দেশের সমুদ্র বন্দরের ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টি হবে জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী মাসের শুরুতেই পায়রার বহির্নোঙ্গরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য লাইটারিং হবে ছোট জাহাজে। এক সাথে আটটি জাহাজ সেখানে ভিড়তে পারবে। প্রথম পর্যায়ে সিমেন্ট ক্লিংকার বোঝাই জাহাজ সেখানে নোঙ্গর করানো হবে। মাদার ভেসেল থেকে ক্লিংকার খালাস করে লাইটার জাহাজগুলো গন্তব্যে চলে যাবে। আবার প্রয়োজনে এগুলো রামনাবাদ চ্যানেলে নিরাপদে নোঙ্গরও করতে পারবে।’

বন্দর চেয়ারম্যান আরো জানান, পৃথিবীর বেশিরভাগ সমুদ্র বন্দরই সমুদ্র তীরেই গড়ে উঠেছে। কিন্তু আমাদের মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর গড়ে উঠেছে নদীর তীরে। পটুয়াখালি উপকুলে বঙ্গোপসাগরে গভীরতা ১৫ মিটার। তাই বড় বড় জাহাজ সহজে সেখানে ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করতে হয় জাহাজ চলাচলে। কিন্তু এখানে সেই সমস্যা নেই। তাই রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা এই বন্দরে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রসার হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের। তাতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। বছরে প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার চট্টগ্রাম বন্দরের। প্রতিবেশী দেশগুলোকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করা হলে মংলার প্রবৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যমান বন্দর দু’টিকে সেভাবে প্রস্তুত করার পাশাপাশি পায়রাকেও তৈরি করা হচ্ছে যাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে সংকটে পড়তে না হয় সেজন্য এ বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পায়রা বন্দর আইন পাশ হওয়ার পর ‘পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে সরকার। এরপর একই বছরের ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করেন। এরপরপরই সরকার পায়রা বন্দরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিক মেগা প্রকল্প হিসেবে তালিকাভূক্ত করে। এরপর চলতি বছরের অক্টোবর পায়রা বন্দরের উন্নয়নে ১১শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেক সভায় পাশ করা হয়। বর্তমানে ১৬ একর জমির ওপর পায়রার ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। একশ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে পণ্টুন, টার্মিনাল, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও নিরাপত্তা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মেগা এই প্রকল্পের জন্য কোনো বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করা না হলেও প্রাথমিকভাবে সরকারি অর্থায়নে একশ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্হিনোঙ্গর থেকে পণ্য খালাসের উপযোগি করে পায়রাকে গড়ে তোলা হয়েছে।

তিন বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের আওতায় ৬৯ একর জমি অধিগ্রহণ, ওয়্যারহাউস নির্মাণ, রামনাবাদ ও কালীগঞ্জ নৌপথ ড্রেজিং, প্রশাসনিক ভবন, হাইস্পিড বোট, পাইলট বোট, টাগ বোট, বয়া লেয়িং ভ্যাসেল, সার্ভিস ভ্যাসেল ও সার্ভিস পণ্টুনসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক উন্নয়ক কাজ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পায়রা বন্দরের সাথে চার লেনের একটি সড়ক কুয়াকাটা মহাসড়কের সাথে সসংযুক্ত করা হবে।বাংলামেইল