মেইন ম্যেনু

পায়ুপথে কনডমে মোড়া সোনা, ৫০০০ পিস ইয়াবা

রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। দুজনের নাম রফিকুল ইসলাম (২৫) ও আমিনুল ইসলাম (৩০)।

রফিকুলের বাড়ি টেকনাফে আর আমিনুরের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। শুক্রবার বিকেলে ফকিরাপুরের দোস্তি হোটেল থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা তাদের গ্রেপ্তার করে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে পেটের মধ্যে করে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করে।

পরে তাদের পায়ুপথ দিয়ে মলের সঙ্গে ইয়াবা বের করা হয়। এদিকে শুক্রবারই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া থেকে আসা তসলিম হোসেন (২৯) নামে এক যাত্রীর পায়ুপথ থেকে ছয়টি সোনার বার উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি ফকিরাপুল থেকে দুই নারীকে গ্রেপ্তারের পর হাসপাতালে নিয়ে তাদের পেট থেকে একইভাবে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন ডিএনসির কর্মকর্তারা। তবে বিমানবন্দরে সম্প্রতি দুই দফায় পেট থেকে সোনার বার উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এক আসামিকে আদালতের নেয়ার পরও তার পায়ুপথ দিয়ে সোনার বার বের হয়েছে। তবে একই দিনে এমন দুই ঘটনা আগে ঘটেনি।

ডিএনসির সহকারী পরিচালক (উত্তর) খোরশিদ আলম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই টেকনাফ থেকে ইয়াবার একটি চালান ঢাকায় আসছে বলে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সেই তথ্যের ভিত্তিতে ফকিরাপুলের ‘দোস্তি’ হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রথমে রফিকুলকে আটক করা হয়। তবে রফিকুল তার কাছে ইয়াবা থাকার কথা অস্বীকার করেন।’

‘কিন্তু তার অস্বাভাবিক আচরণে কর্মকর্তাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে কর্মকর্তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল তার পেটের ভেতর ইয়াবা রাখার কথা স্বীকার করেন। তাকে ওষুধ ও স্যালাইন খাওয়ান কর্মকর্তারা। এরপর রফিকুল মলত্যাগ করলে তার মলের সঙ্গে ৪০টি স্কচটেপ মোড়ানো পলিথিনের প্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতি প্যাকেটে ৫০টি করে মোট ২ হাজার ইয়াবা ছিল।’

খোরশিদ আলম আরো বলেন, ‘রফিকুলকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সহযোগী আমিনুলের নাম জানায়। এরপর কৌশলে আমিনুলকে আটক করা হয়। আমিনুল তার পেটে করে ৬০টি প্যাকেটে ৩০ হাজার ইয়াবা আনে। তারা দুজনই কলার মধ্যে করে এসব ইয়াবার প্যাকেট খেয়েছে বলে জানায়। ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে টেকনাফ থেকে ইয়াবা আনার কথা স্বীকার করলেও দুজন কোনো সহযোগীর নাম প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় কোতয়ালি সার্কেলের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেছেন।’

পায়ুপথে সোনা

এদিকে এপিবিএন-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন শিমুল জানান, মালেয়েশিয়ার ইএ-০৮৭ ফ্লাইটে শুক্রবার ভোর ৬টায় ঢাকায় এসে পৌঁছান তসলিম নামের এক যাত্রী। ২ নম্বর ক্যানোপি পার হওয়ার সময় সন্দেহ হলে তাকে তল্লাশি করেন এপিবিএন সদস্যরা। তল্লাশির এক পর্যায়ে পায়ুপথে সোনার বার রাখার কথা স্বীকার করেন তসলিম। পরে তার পায়ুপথ থেকে কনডমে মোড়ানো ছয়টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। একশ গ্রাম করে প্রতিটি বারের ওজন। যার আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ টাকা। তাসলিম হোসেন কুমিল্লা বুড়িচংয়ের শিকারপুরের ফজলুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।