মেইন ম্যেনু

পা হারালেও জিয়ার প্রতি ভালোবাসা কমেনি

বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল চলছে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে। তার বিস্তৃতি এখন পাশের রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। যেখানে লাখো মানুষ এসেছে সারাদেশ থেকে। এসেছেন বিদেশি মেহমানরাও। সবাই যেন পরিপিটি। কিন্তু এর মধ্যে একজনকে খুবেই বেমানান লাগছিল। গায়ে একটা হাফহাতা শার্ট, পরনে সাদা লুঙ্গি, বাঁ হাতে সোনালী রঙের একটি ঘড়ি, চোখে চশমা। চলাফেরা করছেন ক্র্যাচে ভর দিয়ে। গলায় ঝুঁলছে কাউন্সিলের কার্ড।

কাছে এগিয়ে যেতেই নাম বললেন- খোরশেদ আলম। ৯৬-এর আন্দোলনে একটি পা হারান। রাজনীতির কারণে পা হারালেও থেমে নেই তার দলের আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ। দলের প্রতিটি প্রোগ্রামে, আন্দোলনে এখনো সক্রিয় তিনি। জিয়ার প্রতি ভালোবাসার কারণে এক পা নিয়েই ছুটে যান নিজের কাজ ফেলে।

শনিবার বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক কোণায় তার আত্মত্যাগ নিয়ে কথা হয় খোরশেদ আলমের সঙ্গে। এক পা লাঠির ওপর ভর করে জানালেন তার ঘটে যাওয়া কিছু নির্মম ঘটনা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতি ভালোবাসার কথা।

খোরশেদ আলম ঢাকার বংশাল থানা বিএনপির ৩৩ ওয়ার্ডের সাবেক কমিটির কার্যকরী সদস্য। তিনি জানান, ৯৬-এর গণআন্দোলনে পুলিশের বুলেট তার পায়ে লাগে। এরপর হাসপাতালে অপারেশনে সেই পাটি কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে এক পা নিয়েই চলছে তার জীবন। সংসার জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার।

সেই আন্দোলনে থাকা তার সহাপাঠী মো. সালাউদ্দিন (৫০) বলেন, ‘সেইদিন খোরশেদের পায়ে পুলিশের বুলেট লেগেছিল। পরে সে রাস্তায় পড়ে গেলে আরেকটি গাড়ি তার উপর দিয়ে চলে যায়। আর সে কারণেই তার পাটাকে আর রাখা যায়নি। তবে পা হারালেও এখনো রাজনীতিতে সক্রিয় খোরশেদ। যেকোনো প্রোগ্রামে ডাকা মাত্রই কাজ ফেলে চলে আসে।’

জিয়াকে কেন ভালোবাসেন? জানতে চাইলেন তিনি বলেন, ‘আমি যেদিন প্রথম জিয়াউর রহমানকে দেখেছি, সেদিন থেকেই ভালো লেগেছে। তাকে ছোটবেলায় কাছাকাছি দেখার পর থেকে আমি আর ভুলতে পারিনি। তাছাড়া তার যে বর্তমান রাজনৈতিক দল সেটাও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করে। এই দল অন্যান্য দলের মতো সহিংসও নয়। তাই এই দলকেও ভালো লাগে।’

বর্তমানে রাজনীতি করার কারণে সমস্যা হয় কি না- এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস ফেরি করে বেচি। কিন্তু আমি বিএনপি করি বলে অনেক সময় দোকান বসানো নিয়ে বিপদে পড়ি। মাঝে মাঝে পুলিশের ভয়ও থাকে। তাছাড়া সেই রকম কোনো প্রবলেম হয় না। তবে দল ক্ষমতায় এলে যেন একটু ভালোভাবে খেয়েপড়ে বেঁচে থাকি সেই আশায় আছি।’  বাংলামেইল