মেইন ম্যেনু

পিপঁড়ার ভেলা!

গোটা রাজ্যে ঢেরা পিটিয়ে দেয়া হয়েছে। কিছুক্ষন পরেই রাজ্যের সবাইকে নিয়ে বসতে যাচ্ছে এক জরুরী সভা। রাজ্যের এই সমূহ বিপদের হাত থেকে বাঁচার জন্য চাই এমন এক পরিকল্পনা যাতে রাজ্যের সকলের মঙ্গল হয়। হয়তো বা বর্ননা পড়ে মানবসম্প্রদায়ের কোনো রাজ্যের দূরাবস্থার কথা ভাবছেন। কিন্তু আদতে এটা কোনো মানবসম্প্রদায়ের রাজ্য নয়, বরংচ এ এক পিঁপড়ার রাজত্ব। বণ্যা থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য তাদের দরকার হয়েছে সম্মিলিত কোনো পরিকল্পনার।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অঞ্চলে চলছে দীর্ঘমেয়াদী বণ্যা পরিস্থিতি। এই বণ্যায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত দশজন মানুষ মারা গেছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো দক্ষিণ ক্যারোলিনা যখন বন্যার পানিতে ভাসছে তখন সেখানকার লাল পিপঁড়ার দল হাতে নিয়েছে এক জরুরি পরিকল্পনা। আর এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজার হাজার বিষ পিপড়া ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে একসঙ্গে জরো হয়ে পানিতে ভাসতে থাকে। দেখে মনে হয় যেন পিপড়ার তৈরি একটি ভেলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে ছোট ছোট পোকামাকড়দের নখর সাধারণত তৈলাক্ত হওয়ার কারণে তারা একে আপরের সঙ্গে আঠার মত লেগে থাকতে পারে। আর যেহেতু তাদের গায়ে পানি নিবারক আবরণ থাকে তাই তারা এক সপ্তাহের মত পানির উপর ভেসে থাকতে পারে যতক্ষন না তারা শুকনো জায়গায় না পৌছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে পেনকেকের মত ভাসাটা তাদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। তবে ক্ষুদ পিপড়াদের জন্য একসঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে স্তুপের মত ভেসে বেড়ানোই বেশি উপযোগি।

ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন পতঙ্গবিজ্ঞানী টিম ডেভিসের মতে পিপড়ার এই ঝাঁক যেকোনো সময় পানিতে যে কাউকে আক্রমন করতে পারে। তবে যদি কেউ কোথাও এই পিপড়ার ঝাঁক দেখেতে পায় তবে তাদের তাৎক্ষনিক ছত্রভঙ্গ করে দিতে বলা হয়েছে। কারণ এসব পিপড়ার কামড় এতই বিষাক্ত যে যার ফলে আক্রান্ত জায়গায় ফোসকা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।