মেইন ম্যেনু

পিরামিডের রহস্য উদ্ঘাটনের নতুন প্রকল্প

পিরামিড নিয়ে মানুষের কৌতুহলের যেন শেষ নেই। মিশরীয় প্রথম রাজবংশীয় সময়ের এই পিরামিড গুলো শতাব্দির পর শতাব্দি মানুষকে এর রহস্য উদঘাটনের তাগিদ দিয়েছে। এই অন্যন্য সুন্দর স্থাপত্য নিদর্শনের রহস্য মানুষ খুব একটা উদঘাটন করতেও পারেনি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে মানুষ তাদের প্রচেষ্টাকে অব্যহত রেখেছে। পিরামিডের অভ্যন্তরে রাখা মমি নিয়ে গবেষণার ইতিহাসও বেশ সুদীর্ঘ উল্লেখ্য প্রাচীন মিশরীয় শাসকদের মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হত মমি হিসেবে। তৎকালীন স্থাপত্যকলার প্রতি এই বিংশ শতাব্দীর স্থপতিরাও শ্রদ্ধায় হয়েছেন অবনত। যতদুর পিরামিডীয় রহস্যের সন্ধান আজকের মানুষ পেয়েছে ঠিক ততটুকুর স্থাপত্য কৌশলের সর্বাধিক প্রয়োগ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় এবং মিশরীয় বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ বিশেষ দল নতুন এক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তারা এই পিরামিডীয় রহস্যের নতুন আরেকটি দ্বার উন্মোচন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রযুক্তির সর্বাধিক প্রয়োগ ঘটাতেও তারা কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন।

‘স্ক্যান পিয়ামিড’ নামের ওই প্রজেক্টের মূল লক্ষ হল চার বিখ্যাত ফিরাউনের মিনার আবিষ্কার করা। ইমেজিং টুল ব্যবহার করে তারা পিরামিডগুলোর বিভিন্ন কামরা আবিষ্কার করবে। পিরামিডের দেয়ালের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ওই ইমেজিং রশ্মিগুলো থ্রী ডি ইমেজের মাধ্যমে পিরামিডের নির্মাণ কৌশল সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করবে। আর তারা যদি তা করতে পারেন তাহলে ১৮ তম রাজবংশের একজন পরাক্রমশালী মিশরীয় ফেরাউন তুতেনখামেনের সমাধিও আবিষ্কার করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এতে নেফারতিতির সমাধিও আবিষ্কৃত হতে পারে। জনশ্রুতি রয়েছে কোনো এক ফেরাউনের রানীকে পিরামিডের দেয়ালের অপরপ্রান্তে সমাহিত করা হয়েছে।

মিশর, কানাডা এবং জাপানের কয়েকজন বিজ্ঞানি এবং স্থপতিদের নিয়ে ওই প্রকল্প পরিচালিত হবে। এই বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক ভাবে মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে দক্ষিণে অবস্থিত দাসুর পিরামিড এবং গিজায় কুফো পিরামিডকে তাদের প্রকল্পের আওতায় রেখেছেন বলে জানা গেছে।

পিরামি

মিশরীয় পুরাতত্ত্ব মন্ত্রী মামদুহ আল দামাতি বলেন, ‘এই বিশেষজ্ঞরা এই দুটি পিরামিডের ওপর অনেক অনুসন্ধান করবেন। তারা বের করার চেষ্টা করবেন এগুলোর ভিতরে কোথাও কোনো সমাধি আছে কিনা। বিশেষজ্ঞরা জানান, তারা উন্নত থ্রী ডি লেসার পদ্ধতিতে স্ক্যান করবেন পিরামিডগুলো। এতে পিরামিডের কোনোরূপ ক্ষতি সাধন ছাড়াই তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। এর আগে বহুবার এই দুটি পিরামিডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা কিন্তু তেমন কোনো আশানুরুপ ফলাফল পাননি। এমনকি গত ৩০ বছর আগেও ঠিক এই একই ধরণের প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছিল। তবে এটা পিরামিডে মুল কাঠামোর প্রতি হুমকি ছিল। এবার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করায় আশা করা যাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা সফল হবেন।

আগামী ২০১৬ সালের শেষের দিকে এই ‘স্ক্যান পিরামিড’ প্রকল্পটি শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আর এই প্রকল্প শেষ হলেই জানা যেতে পারে তুতেনখামেনের সেই গোপন কামরার অবস্থান। তার মা নেফারতিতির সমাধিও বের করা যাবে। জানা যাবে অনেক অজানা তথ্যই যেগুলো এতদিন পর্যন্ত মানুষের অধরা ছিল। কে জানে, হয়তো সভ্যতার এমন এমন কোনো তথ্য মিলেও যেতে পারে কখনই মানুষের কল্পনাতেই ছিল না কখনও।