মেইন ম্যেনু

পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চলে গেলেন না ফেরার দেশে

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় শিক্ষা বিষয়ে লেখা পড়া বিভাগে সিদ্ধহস্ত ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফজলে রাব্বানি বুলবুল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। দীর্ঘ দিন ঢাকায় বসবাস করে মতিঝিল আইডিয়াল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ৬৭ বছর বয়সে মৃতু তাকে না ফেরার দেশে নিয়ে চলে গেলেন। আর রেখে গেলেন স্ত্রী সহ ১ ছেলে ও ১ মেয়ে।

অসম্ভব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ভাল শিক্ষক ফজলে রাব্বানি বুলবুল। হৃদয় ছিল তার উদর প্রকৃতির সাধারণ ভাবে মানুষ হিসাবে তিনি ছিলেন অন্যন্য। ছড়া, কবিতা, ছোট গল্প লিখতেন অহরহ। কবি হিসাবে ব্যপক পরিচিত না হলেও কবির খাতায় তার নাম যেন উকি দেয় সমসাময়িক সময়ে।

বাবা ইব্রাহিম আহম্মেদ ফুড ইন্সেপেক্টর হিসাবে চাকুরি করেছেন কিছু দিন। অবৈধ্য টাকা হজম করতে পারেন নি যার ফলে চাকুরি ছেড়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন। রাণীশংকৈলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে খ্যাত রানীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএসসি শিক্ষক হিসাবে প্রসিদ্ধ লাভ করেন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে। তিন তিন বার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান বাবা ইব্রাহিম আহম্মেদ। ৬ ভাই ৪ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়

বাংলা ব্যকরণে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। ১৯৬৫ সালে এস.এস.সি, ১৯৬৭ সালে এইচ,এস,সি এবং দিনাজপুর এনএস অর্থ্যাৎ বর্তমানে সরকারি কলেজ থেকে ২য় বিভাগে বিএ পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সময় ১ম স্থান অধিকার করে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন। এই মহান জ্ঞানি মানুষটি লেখাপড়া শেষে ফিরে এলেন রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজে বাংলা প্রভাষক হিসাবে। সৃষ্টিশীল মনোভাব তাকে রানীশংকৈল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রহী করে তুলে। কিছু দিনের মধ্যে ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়ে যান। অভিমানি এ মানুষটি কি মনে করে চাকুরি না ছেড়েই পাড়ি জোমান রাজধানী ঢাকায়। চাকুরি নেন মতিঝিলের আইডিয়াল এন্ড কলেজে। ঐ প্রতিষ্ঠানে বাংলা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান চাকরীতে অবসর নেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত।

সাহিত্য, কবিতা, গল্প আর সৃষ্টিশীল চিন্তাচেতনায় মুগ্ধ মানুষটি দীর্ঘ দিন ঢাকায় থেকেও নিজেকে বড় একা করে রেখেছেন। লোভ লালসা কিংবা বিলাসিতা তাকে ছুতে পারেনি কখনো। তাই তো রানীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের মাঠে তার জানাযায় অশ্র“ সিক্ত নয়নে তাকে দেখার জন্য সম্পদশালীদের দেখা মেলেনি। দেখা গিয়েছিল তার কাছের কয়েক জন কে আর বন্ধু হিসাবে দু’ফোটা চোখের জল রুমালে মুছতে দেখা গিয়েছিল তার কাছের বন্ধু মুকসেদ মাস্টারকে! ভালোবাসা অশ্র“ বিন্দু দিয়ে কুরআনের সূরা ইয়াসিন পড়েছিলেন বন্ধু বুলবুলের জন্যে।