মেইন ম্যেনু

পুকুর নয়, এটা রাস্তা, রাজধানী ঢাকারই রাস্তা

উপরের ছবিটি দেখে মনে হতে পারেই এটি কোনো পুকুর, ডোবা কিংবা নালার ছবি। আসলে তা নয়। এটি রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এখানেই সরকারের একাধিক দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় রয়েছে। এ কারণেই এর আশপাশের সড়কগুলোও অতি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কগুলোর চেহারা দেখে তো বোঝার উপায় নেই।

বছরের ১২ মাসই খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে থাকে জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি এসব সড়কের বাস্তবতা। আর দীর্ঘ সময় এভাবে থাকতে থাকতে রাস্তাগুলো চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মহাসড়কগুলোর মতো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা না ঘটলেও ছোট-খাটো দুর্ঘটনা তো ঘটছেই।

অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় রয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, পরিসংখ্যান ব্যুরো, এলজিইডি, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, ব্যান্সডক, পিকেএসএফ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, আবহাওয়া ভবন, বন ভবন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কর্মকমিশন সচিবালয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রে ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ‍ও তার জাতীয় সদরদপ্তর।

এছাড়াও নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বাতজ্বর ও হৃদরোগ হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, প্রবীন হিতৈষী সংঘ, প্রবীন হিতৈষী হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালের মতো স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে এই আগারগাঁওয়ে। জলাবদ্ধাতাই শুধু এখানকার সমস্যা নয়। সঙ্গে আছে রাতে সড়কবাতি না জ্বলার সমস্যাও। সন্ধ্যা নেমে এলেই এলাকায় নেমে আসে ভূতুড়ে পরিবেশ।

এগুলোর মধ্যে ইসলামী ফাউন্ডেশন হয়ে পিকেএসএফ প্রধান কার্যালয়, কোস্টগার্ড সদরদপ্তর ও সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রের সামনে দিয়ে যাওয়া সড়কের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। রাস্তায় পানি জমে থাকায় সড়কটি দিয়ে কোনো যানবহন চলাচলের পরিস্থিতি নেই। খানাখন্দে ভরা রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আইডিবি ভবন থেকে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল পর্যন্ত সড়কটি জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবহার হচ্ছে না। সড়কের বুকজুড়ে এখন বিশাল জলাশয় আর ছোটখাট গর্ত। খানাখন্দ এড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচলের কোনো উপায় নেই। এটি পরিণত হয়েছে ছোটখাট একটি জলাশয়ে। সড়কটির কোনো অংশই আর চলাচলের উপযোগী নয়।

স্থানীয় রিকশাচালক নুর মিয়া জানান, তারা এই রাস্তা ব্যবহার করেন না। শুধু বর্ষা নয়, বছরের প্রতিটি মাসেই এ রাস্তায় পানি থাকে।

প্রতিদিন সকালে এ সড়কটি দিয়ে সমাজ সেবা অধিদপ্তরে আসেন সেখানকার কর্মকর্তা নাজমুল হক। তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে অফিসে রিকশা ভাড়া মাত্র ১০ টাকা। কিন্তু রাস্তা খারাপের কারণে ৩০ টাকা দিলেও কেউ আসতে চায় না। রাস্তায় জমে থাকা পানি এতো বিষাক্ত, পানিতে পা দিলে চুলকায়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, ‘শুনছি সরকার এ এলাকায় এবার সচিবালয় আনবে। রাস্তা-ঘাটের কারণে যে অফিসগুলো আছে সেগুলোও চলে না। সচিবালয় আনতে হলে আগে এলাকার রাস্তাঘাট ঠিক করতে হবে।’

তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভ্যানচালক দুলাল বলেন, ‘ভোটের আগে অনেক কথা শুনেছি। কিন্তু এখন ঢাকার মেয়ররা কোথায়? তারা কী এসব দেখে না? তারা চাইলে অল্প সময়ের মধ্যে পুরো নগরীকে মডেল নগরী বানাতে পারেন।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা ডিএনসিসি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাটের তালিকা তৈরি করেছি। আগারগাঁও বাদ যায়নি। সে মোতাবেক উন্নয়ন কাজে হাত দিয়েছি। মেয়র সাহেবও সাধ্য মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সফল হবো।’