মেইন ম্যেনু

পুনরুদ্ধার করা হবে ‘বুড়িগঙ্গা’ নদী

পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, তুরাগ-বালু-বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা নদীর পানির স্বচ্ছতা ও নাব্যতা রক্ষার লক্ষ্যে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে এসব নদী পুনরুদ্ধার করা হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য পিনু খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েক দশকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা এবং বালু নদীর প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এসব নদীর পানি শিল্প কারখানা থেকে নির্গত তরল বর্জ্য, বিষাক্ত রাসায়নিক এবং মানব বর্জ্য দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ছে। দূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বুড়িগঙ্গা এবং ঢাকার চারপাশের অন্যান্য নদীগুলো জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন ও অব্যাহত পলি পড়ার কারণে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ এবং শীতলক্ষ্যা নদীর ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া এ নদীর প্রবাহ কমে যায়।

মন্ত্রী বলেন, গত ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট ওয়াটার সেক্টর ও ড্রেজিং বিষয়ক কমিটির প্রথম সভায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা শহরের চারপাশের নদীপথসমূহ ড্রেজিং করার নির্দেশ প্রদান করেন।

তিনি বলেন, একনেকের সভায় ২০১০ এপ্রিল থেকে ২০১৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পুংলি, বংশাই ও তুরাগ নদী দিয়ে যমুনা নদী হতে ২৪৫ কিউসেক পানি এনে বুড়িগঙ্গা নদীতে পানির প্রবাহ ১৪১ কিউসেক বৃদ্ধির মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি গুণগতমান বৃদ্ধি, ঢাকা মহানগরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌ-পথসহ উল্লেখিত নদীসমূহে সারা বছর নৌ-যান চলাচলের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করা, সেচ ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে নিউ ধলেশ্বরী ও পুংলি নদী ৬৩.৫০ কি.মি. ম্যানুয়ালী বা এক্সকাডেটর দ্বার খনন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে উক্ত অংশসহ ১৬২.৫০ কি.মি. নদী ড্রেজার দ্বারা খননের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি প্রকল্পটির বাস্তবায়নকালীন সময়ে পরিলক্ষিত হয়, নদীসমূহ ড্রেজিং করার কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত ২২টি ব্রিজের ফাউন্ডেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া যমুনা নদী থেকে পলি এসে নতুন ধলেশ্বরী নদীর অফটেক এলাকায় পলি পড়ে নতুন চর জেগে উঠছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ডিপিপি সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত সংশোধিত ডিপিপি চলতি মাসের ১৪ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ (শীতলক্ষ্যা নদীসহ) নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। বুড়িগঙ্গা-তুরাগ (শীতলক্ষ্যা নদীসহ) নদীতে নৌযান চলাচলের নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। সেচ ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন হবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন সাধিত হবে।