মেইন ম্যেনু

পুনর্গঠন নিয়ে অন্ধকারে বিএনপির শীর্ষ নেতারা

আবারও ঘোষণার পর আটকে গেছে বিএনপির পুনর্গঠনের উদ্যোগ। বরং কাকে কোন দায়িত্ব দেয়া হবে, কে আসলেই সক্রিয় হবেন, সে নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর সারাদেশে বিএনপির পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। বেশ কিছু জেলা কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটিও করা হয়। ভেঙে দেয়া হয় ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটিও। কিন্তু সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থমকে যায় কয়েক মাসের মধ্যেই আবার প্রস্তুতিহীন অবস্থায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং পরে হরতাল ডেকে কর্মসূচি চালিয়ে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয় বিএনপি। এরপর থেকে আর সরকার পতনের বিষয়ে কোনো কিছু বলছেন না নেতারা। আর দ্বিতীয়বার আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর দলকে ঢেলে সাজানোর কথা বলছে বিএনপি।

তবে এই ঘোষণার পরও কেটে গেছে দুই মাসেরও বেশি সময়। পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এতদূর আগায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন নেতারা। বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্ এমাজউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেবেন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এ নিয়ে এখন আর কিছু বলছেন না তিনি।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, দল গোছানোর লক্ষ্যে আন্দোলন বন্ধ করার পর থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে মাঠে থাকা নেতাদের তথ্য উপাত্ত। একইসঙ্গে আন্দোলনের গোটা সময়ে আত্মগোপনে দিন কাটানো নেতাদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই তালিকা মূল্যায়ণ করেই দল পুনর্গঠন করবেন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নিরাপদে থাকার অভিযোগ আছে দলে তারা আর নিরাপদ থাকতে পারবেন না বলে জানা গেছে।

তবে কোন প্রক্রিয়ায় দল গোছাবেন তা স্পষ্ট করেননি খালেদা জিয়া। তাই এ নিয়ে শীর্ষ নেতারা আছেন অনেকটা অন্ধকারে।

জানা গেছে, ঈদের পর যে কোনো সময় খালেদা জিয়া জেলা কমিটিগুলো ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। কারণ ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি হয় না এমন সংখ্যাই বেশি। আবার অনেক জেলা বিএনপি বছরের পর বছর আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে।

এদিকে আন্দোলনে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের বেশি অবদান থাকায় খালেদা জিয়া সেখানকার নেতাকর্মীদের মূল্যায়ণের মাধ্যমেই কাজ শুরু করতে চান বলে জানা গেছে।

শীর্ষ নেতারাও তৃনমূল থেকে দল পুনর্গঠন শুরুর সম্ভাবনা দেখছেন। এছাড়া সম্প্রতি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে।

যদিও খালেদা জিয়ার দল পুনর্গঠনের ঘোষণার পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- আসলেই কি তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী নেতাদের মূল্যায়ণ করতে পারবেন? নাকি আবার সুবিধাবাদীরাই থাকবেন বিএনপির নেতৃত্বে? তবে খালেদা জিয়ার ঘোষণার পর আন্দোলন থেকে গা বাঁচিয়ে থাকা নেতারা আতঙ্কে আছেন।

দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা কারাগারে থাকায় এবং অনেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে আত্মগোপনে থাকায় কিছুটা ধীরগতিতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।

দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ দলের তৃণমূল পর্যন্ত তারুণ্য নির্ভর এবং ভাল ভারমূর্তির নেতাদের নিয়ে শক্তিশালী বিএনপি গঠন করতে চান খালেদা জিয়া। তার এখন মূল ভাবনা হলো জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপিকে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখা। যাতে করে সরকারের রোষানলে ও ষড়যন্ত্রে বিএনপি অস্তিত্ব সংঙ্কটে না পড়ে।

সূত্রটি আরও জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর পুরোদমে পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী ঈদুল আযহার আগেই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমরা ধারণা জেলা কমিটিগুলো ভেঙে দিয়ে দল পুনর্গঠন শুরু হতে পারে। পরে সুযোগ হলে কাউন্সিল করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে হাত দেয়া হবে। তবে চেয়ারপারসন এখনো বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ওইভাবে কিছু জানাননি’।

আর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করেন, সৎ, যোগ্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে দল পুনর্গঠন করা হবে। চেয়ারপারসন সেভাবেই কাজ শুরু করেছেন। সকলের মতামত নিচ্ছেন। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে প্রধান কাজ হলো দল গোছানো’।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা জেলে আছেন। তারা বের হলেই দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হবে’।

কোন প্রক্রিয়া দল গোছানো হবে এমন প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হয়তো তৃনমূল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আর কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের জন্য কাউন্সিল করা দরকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউন্সিল করাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার’।