মেইন ম্যেনু

পুরনো প্রেমিককে ফিরে পেতে এই কিশোরী যা করল, তা অকল্পনীয়!

ভালবাসার জন্য কতদূর যেতে পারে মানুষ? প্রেমের জন্য সর্বস্ব পণ করে বসা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু সম্প্রতি চিনের এক কিশোরী তার ভালবাসার জন্য যা করেছে, তা রীতিমতো দৃষ্টান্ত হয়ে থাকার যোগ্য।

লি হি ডেন-এর বয়স মাত্র ১৫। নিবাস চিনের হেনান প্রদেশে। বছরখানেক আগে প্রায় সমবয়সি একটি কিশোরকে পাগলের মতো ভালবেসে ফেলেছিল লি। ছেলেটিও ইচ্ছুক ছিল লি-র সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু তাদের সম্পর্কের বয়স কয়েক মাস হতে না হতেই নানা কারণে সেই কিশোর বিমুখ হয় লি-র প্রতি। লি-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দেয় সে। লি অনেক চেষ্টা করে মিটমাটের। কিন্তু ছেলেটি আর তার দিকে ফিরেও তাকায়নি। শেষমেশ ব্রেক-আপ হয়ে যায় দু’জনের।

সম্পর্কের বয়স কয়েক মাস হতে না হতেই নানা কারণে সেই কিশোর বিমুখ হয় লি-এর প্রতি। লি-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দেয় সে। লি অনেক চেষ্টা করে মিটমাটের। কিন্তু ছেলেটি আর তার দিকে ফিরেও তাকায়নি।

লি-র বয়সি অন্য কোনও মেয়ের সঙ্গে এমনটা ঘটলে সে হয়তো কয়েকটা দিন মনমরা হয়ে থাকত। তার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করত। কিন্তু লি অন্য ধাতুতে গড়া। ব্রেক আপের পরে সে মনে মনে সংকল্প নেয়, পুরনো প্রেমিককে আবার তার জীবনে ফিরে আসতে বাধ্য করবে।

দেখতে-শুনতে কোনওদিনই মন্দ ছিল না লি। দিব্যি একটা স্মিত সারল্য ছিল তার চেহারায়। কিন্তু লি স্থির করে, নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে নেবে সে। তার জন্য যে কোনও মূল্য চোকাতে সে প্রস্তুত ছিল। সে দেশের নামজাদা প্লাস্টিক সার্জেনদের দ্বারস্থ হয়।

ডাক্তাররা লি-র চাহিদা বুঝে তাঁকে সতর্ক করে দেন যে, সে যেরকম চেহারা চাইছে, তেম‌নভাবে তাকে গড়ে দিতে গেলে অজস্র প্লাস্টিক সার্জারি করতে হবে তার শরীরে। তাতে তার শরীরে যথেষ্ট কুপ্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু লি জানায়, সে যে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।

লি-এর নাক, মুখ, চোখ, চোয়ালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে দফায় দফায় প্লাস্টিক সার্জারি করেন ডাক্তাররা। প্রচন্ড শারীরিক যন্ত্রণা এবং জটিলতার মধ্যে কয়েক মাস কাটে লি-র। একটু একটু করে সম্পূর্ণ বদলে যায় লি-র শরীর। একেবারে অন্য মানুষে রূপান্তরিত হয়ে যায় সে।

এখন একেবারে চলন্ত পুতুলের মতো দেখতে হয়েছে লি-কে। হাত-পা-চোখ-মুখ সবই যেন পুতুলের শরীরের অংশ। নিজের প্রাক্তন প্রেমিক অবশ্য এখনও লি-র সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করেনি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছে লি। চাইনিজ সোশ্যাল মিডিয়া উইবো-তে নিজের নতুন চেহারার ছবি পোস্ট করার মাসখানেকের মধ্যে লি-র ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তারকা হয়ে গিয়েছে লি। কিন্তু তার মনে শান্তি নেই। যার জন্য এতকিছু, সেই পুরনো প্রেমিক আবার ফিরে আসুক তার জীবনে, এটাই একমাত্র প্রার্থনা লি-র।

চাইনিজ সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, একা লী নয়, চিনের কিশোরী ও যুবতীদের মধ্যে বর্তমানে কোরিয়ার চলচ্চিত্র নায়িকাদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অনেকেই চাইছেন, কোরিয়ান নায়িকাদের মতো করে নিজেদের গড়ে নিতে। তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিক সার্জারির পথও বেছে নিচ্ছেন অনেকে।-এবেলা