মেইন ম্যেনু

পুরনো শত্রুর সঙ্গে ‘জোট’ করছে রাশিয়া!

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে আরেক সন্ত্রাসী সংগঠন এবং পুরনো শত্রু তালেবানের সাথে সখ্য গড়ে তুলতে চাইছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারভ জানিয়েছেন, শুধু আইএসের ব্যাপারে তথ্য আদান প্রদান করতেই তালেবানদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে মস্কো।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে দিন দিন বেড়ে চলেছে আইএসের সংখ্যা এবং তাদের তৎপরতা। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা দেশটির কংগ্রেসকে জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানে আইএস তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে সেখানে আইএসের প্রায় ৩ হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

সাবেক সোভিয়েন ইউনিয়নের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষার শিকার হয়েছিল আফগানিস্তান। তখন তাদের প্রতিহত করতেই বিশেষ করে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হয় তালেবান। সেসময় আরেক পরাশক্তি যুক্ত এই সংগঠনকে অর্থ, অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। ফলে তালেবানরা সফলভাবে সোভিয়েতকে হটিয়ে দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পেছনে এই পরাজয় বড় ভূমিকা রেখেছিল। অবশ্য পরে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে তারাই আবার যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতে পরিণত হয়।

এতোদিন পরে এমন পরিস্থিতিতে পুতিন কেন এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মারিয়া জাকারভ জানান, শত্রুর শত্রুর সঙ্গে সখ্য স্থাপনেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ককেশাস অঞ্চলে জিহাদিদের উত্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তিত রাশিয়া এবং তারা চায় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাক।

এ বিষয়ে এক রুশ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘উত্তর ককেশাস অঞ্চলে আইএসের প্রভাব থাকার কারণে সেখানকার লোকজন সংগঠনটির পক্ষে সিরিয়ার যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে। রুশ সরকার যা দাবি করছে, তাদের সংখ্যা তত বেশি না হলেও বেশ ভালো সংখ্যক লোক আইএসে যোগ দিচ্ছে এবং তারা নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের।’

সিএনএনের সামরিক বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মার্ক হার্টলিং বলেন, ‘সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান এবং কাজাখস্তানের সাথে আফগানিস্তানের সীমান্ত থাকায় রাশিয়া এবং পুতিন এ এলাকায় সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চলাচল নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাজটি পুতিনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এ অঞ্চলে তিনি নিজের অবস্থান জোরদার করতে এবং শক্তি বৃদ্ধি করতেই এটি করতে যাচ্ছেন।

পুতিনের কৌশল সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রে উড্রো উইলসন সেন্টারের গবেষক ম্যাথু রোজানস্কি বলেন, ‘তিনি স্নায়ুযুদ্ধকালীন সত্তরের দশকে ফিরে যেতে চান, যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডেপার্টমেন্টের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সেখানকার এক কর্মকর্তা জানান, আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে এ অঞ্চলে রাশিয়া এবং অন্য দেশগুলোর পারস্পারিক স্বার্থ রয়েছে। আমরা আশা করি, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার বিষয়ে রাশিয়ার সাথে একত্রে কাজ করতে আমরা একটি পথ খুঁজে পাবো।’