মেইন ম্যেনু

পুরুষতন্ত্র কি আমাদের মগজে সুপার গ্লু’র মত সেঁটে গেছে?

প্রতিটি মানুষের জীবনে সংগ্রাম ভিন্ন। বাংলাদেশের মত উন্নত (!) সমাজে নারীর যুদ্ধটা আবার পুরুষের থেকে ভিন্ন। আবার নারী থেকে নারীতে যুদ্ধের আর সংগ্রামের কাহিনী ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। প্রতিটি গল্প অনন্য, একে অপরের সাথে অতুলনীয়।

অনেক দিন হল লক্ষ্য করছি, তিনজন নারী একসাথে বসে বেশি দিন আড্ডাও দিতে পারে না। ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়, না পারার সংখ্যাটাই বেশি।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও পরবর্তিতে দেখছি পুরুষদের মধ্যে আড্ডা ভাঙার গল্প থাকলেও নারীদের আড্ডা ভাঙার প্রবণতা একটু বেশি। ভাঙনের গল্পে একে অপরের প্রতি প্রতিহিংসা মূলক আঘাত হানতে নারীরা অনেক বেশি পারঙ্গম। আবার এও বলছি না ছেলেরা সমাজে তুলশী পাতার মত পবিত্র। আবারো স্পষ্ট করতে চাই যে, পুরুষেরা প্রতিহিংসামূলক নন এমনটা বলছি না। কিন্তু প্রতিহিংসাপরায়ণ পুরুষেরাও যেভাবে এক হতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা নারীরা কেন জানি এক হতে পারেন না!

কিছু দিন আগে এক বন্ধু একবার লিখেছিলেন, “অনেকে মনে করেন, আমি বাচ্চার জন্য কাজ ছেড়েছি, না, বাচ্চা রাখার মতো অসংখ্য লোক আমার পরিবারে আছেন। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য কাজ ছেড়েছি। যারা বাচ্চাকে দেখাশোনা করার লোকের অভাবে কাজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন; তারা তাদের সাথে আমাকে গুলায় ফেলেন।” আসলে এই বন্ধু তার স্বাধীনভাবে কাজ করার ইচ্ছা দ্বারা যেটা, বুঝাতে চেয়েছেন সেটা ভিন্ন কথা তবে তিনি যে বা যেসব মেয়েরা একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, ভাল মানুষের অভাবে কাজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন; তাদের বাস্তবতাকে তিনি (লেখক)তাচ্ছিল্য করেছেন। যেটা করার অধিকার আসলে তিনি রাখেন না।

আমার মনে হয় “তুই কল তলার মেয়ে” এই কথাটি কয়জন পুরুষ কয় জন মেয়েকে বলেছে সেটা হিসাব করা কঠিন না। হ্যাঁ পুরুষের সংখ্যা বেশি হয়তো হবে, তবে নারী মুখ থেকে যখন কথাটি আসে; তখন আসলে আরেক জন নারী হিসেবে লজ্জা পাওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না।

গত নারী দিবসে একটি ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম, দেখতে দেখতে আমার এনজিও কার্যক্রম ও ফান্ড রাজনীতির কথা খুব মনে পড়ছিল। এই ডকুমেন্টারিতে একজন একাকী নারীর জীবন, বাস্তবতা, সংগ্রাম দেখানো হয়েছে। এই দেখানোর মাধ্যমে সেই সংগ্রামী নারীকে প্রদর্শন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনের মাধ্যমে সেই নারীর জীবনে আর্থ-সামাজিক কি কোন পরিবর্তন এসেছে? নাকি যিনি সেটি নির্মান করেছেন, তার জীবনের গল্প পরিবর্তিত হয়েছে? তাহলে নারী এখনো নির্মিত হচ্ছেন, শোকেসে প্রদর্শিত হচ্ছেন অন্য কোন নারীর দ্বারা। দীর্ঘকাল ধরে পুরুষের দ্বারা নারীর যে অধঃস্থন নির্মান হয়েছে, বর্তমানে সেই নির্মানে হাত লাগিয়েছে নারীরাও।

একজন স্বনামধন্য নারী লেখক, তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়ও বটে, ফেসবুকে মডেল মিথিলা জ্যাকুলিনকে নিয়ে যা তা লিখেছেন। তিনি কি আসলেই নারী? না তিনি পুরুষতন্ত্রের ডিজগাইজড দালাল?

আমি খুচরা কাজ করি। যত মেয়ে/নারী কাছে কাজ চেয়েছি (চাকুরী নয়) তারাই আমার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেছে। কখনো কখনো পারব, কি পারবো না, কোন জবাব পর্যন্ত দেয় নি। ভেবেছে ভিখারি ভিক্ষা চেয়েছে।

কেন আমরা এরকম?

পুরুষতন্ত্র কি আমাদের মগজে সুপার গ্লু’র মত সেঁটে গেছে? নারীরা দীর্ঘকাল পুরুষতন্ত্রীয় আবহাওয়ায় থাকতে থাকতে “সূর্যের চেয়ে বালি গরম” অসুখে ভুগছেন? নারী অবদমন ও অবমূল্যায়নে ছাড়িয়ে গেছেন পুরুষকেও এবং ইহা হয়তো পুরুষতন্ত্রের হাওয়ার প্রভাব!

লেখক: নৃবিজ্ঞানী, মানবাধিকার কর্মী এবং ভিজুয়্যাল স্টোরিটেলার