মেইন ম্যেনু

পুরুষ থেকে নারী, তবুও আচরণ পুরুষের মত!

ছেলে হিসেবে লাহোরে বেড়ে ওঠা। অবশেষে কোলনে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন নারী হিসেবে৷ যদিও তার পরিবার বিষয়টি মেনে নিয়েছে।

স্কুলে যাওয়ার আগেই আলী রাজা বুঝেছিলেন যে, তিনি আসলে একটি ভুল দেহে বড় হচ্ছেন৷ ছেলেদের সঙ্গে খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ ঠিক পছন্দ হচ্ছিল না তার৷ আগ্রহ ছিল পুতুল, অলংকার এবং মেকআপ নিয়ে৷

তার বয়স যখন পাঁচ বা ছয় বছর, মানে যখন তিনি কথা বলতে শেখেন, তখনি ঘটে বিপরীত। তিনি মাকে বলেছিলেন আচরণের এ ভিন্নতার কথা৷ মা অবশ্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেননি৷

তার মা মনে করেছিলেন, বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে এবং আমি পুরুষের মতোই আচরণ করবো।
আলী সেদিনের কথা স্মরণ করে এখনো হাসেন৷

পুরুষ আলী রাজাকে তিনি বহু আগেই বিসর্জন দিয়েছেন৷ বর্তমানে লাহোর থেকে বহুদূরে জার্মানির কোলনে তার বাস। পড়ছেন পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে৷

তিনি এখন প্রকাশ্যে নারী হিসেবেই বসবাস করছেন৷ মেকআপ নেন, সবসময় শেভ করে থাকেন৷ এমনকি হাঁটাচলা, কথা বলা– সবই নারীর মতো৷

শুধু তার দেহটাই এখনো পুরুষের রয়ে গেছে৷ তবে সেটাও খুব তাড়াতাড়ি পুরোপুরি বদলে ফেলতে চান রেজা৷

নিজেকে আলিয়া পরিচয় দেয়া রেজা বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে হরমোন নিতে শুরু করেছি৷ আশা করছি, আগামী দু’বছরের মধ্যে একটা অস্ত্রপচারও হয়ে যাবে৷

নিজের দেহটাকে পুরোপুরি নারী করে নিতে অধীরে আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন তিনি৷ তবে নিজের নারী পরিচয়ের ব্যাপারটা পুরোপুরি তার পরিবারকে জানাতে ইতস্তত করেছেন আলিয়া৷

তিনি মনে করেছিলেন, মাকে জানালে মা হয়তো তাকে ত্যাজ্য করবেন৷ কিন্তু হয়েছে উল্টোটা৷ তার মা বিষয়টি মনে নিয়েছেন৷

পাকিস্তানে অবশ্য সবার ক্ষেত্রে এমনটা হয় না৷ পাকিস্তানে হিজড়াদের জীবন অনেক দুর্বিষহ৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের একমাত্র পেশা হয়ে ওঠে বিভিন্ন উৎসবে গান গাওয়া আর নাচা৷

সমাজের মূলধারায় তাদের কোনো স্থান হয় না৷ কয়েক সপ্তাহে আগে ২৩ বছর বয়সী পাকিস্তানি অ্যাক্টিভিস্ট আলিসাকে হত্যা করা হয়, যিনি হিজড়াদের অধিকার নিয়ে সচেষ্ট ছিলেন৷

মুসলিম প্রধান পাকিস্তানে হিজড়াদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা পরিসংখ্যান ঘাটলে পরিষ্কার হয়ে ওঠে৷ গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত মাত্র ১৬ মাসে শুধু খাইবার পাকতুনখা প্রদেশেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনশ’র মতো হিজড়া। খুন হয়েছেন ৪৬ জন৷

আলিয়া অবশ্য কখনো শারীরিকভাবে আক্রান্ত হননি৷ তবে হিজড়াদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাবের বিষয়টি তিনি জার্মানিতেও টের পেয়েছেন৷

অনেকেই তার দিকে বাকা চোখে তাকিয়েছে। এমনকি শিশুরা তাকে নিয়ে কানাঘুষা করতেও দেখেছেন তিনি৷ একদিন এক মাতাল তাকে ভারতে ফিরে যেতে বলেছে৷

আলিয়া মনে করেন, সমাজে হিজড়াদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তাদের সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে হবে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে৷ সেটা জার্মানি এবং পাকিস্তান উভয় দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।