মেইন ম্যেনু

পুরো বারডেম হাসপাতাল জুড়ে ছারপোকা, অতিষ্ঠ রোগী ও কর্মীরা

বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছারপোকা নিধনে প্রতি বছর খরচ করছে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নিধনকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিন ছারপোকা নিধনে কাজ চলছে। যে ওয়ার্ড থেকে অভিযোগ আসছে, কর্মীরা সেখানেই ছারপোকা নিধনকারী ওষুধ স্প্রে করছেন।

তবে বাস্তবতা হলো, কর্মীদের এই ‘পরিশ্রম’ খুব একটা কাজে আসছে না। রোগী ও কর্মীদের ছারপোকার উৎপাত সহ্য করতে হচ্ছে। বিছানা, বালিশ থেকে শুরু করে চেয়ার-টেবিল সর্বত্র ঘাপটি মেরে আছে ছারপোকা। রাতের বেলা তো বটেই, দিনেও অনেক সময় চেয়ারে বসা কষ্টকর।

বারডেম কর্তৃপক্ষ ও নিধনকারী সংস্থা ছারপোকার বংশ নির্মূল করতে না পারার ব্যর্থতা নিজেদের কাঁধে নিচ্ছে না। এ জন্য তারা রোগীদের অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছে। রাজধানীর শাহবাগে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-১ ও সেগুনবাগিচায় নারী ও শিশুদের জন্য বারডেম-২ অবস্থিত। বারডেম জেনারেল হাসপাতালে ছারপোকার উৎপাত বেশি। প্রম্পট (পিআরওএমপিটি) সার্ভিসেস বিডি নামক একটি সংস্থা ছারপোকা নিধনে এই দুই হাসপাতালে কাজ করছে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্স বলেন, ২০ বছরের বেশি কর্মজীবনে এমন ছারপোকার দৌরাত্ম্য তিনি দেখেননি। তিনি জানান, এই হাসপাতালের কোনো কোনো ওয়ার্ডের অবস্থা ভয়াবহ। অনেক সময় দিনের বেলাতেও চেয়ারে বসতে পারেন না। ছারপোকা কামড়াতে থাকে সারাক্ষণ। রাতের বেলার অবস্থা তো আরও খারাপ। একজন নার্স ছারপোকার কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি জানান।

ওই নার্স বলেন, হাসপাতাল থেকেই রোগীর ড্রেস দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে রোগীদের কম্বল বা অন্যান্য জিনিস আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে এসব জিনিস না আনার বিষয়টি কাগজে কলমে থাকায় তা রোগীরা মানছে না। এটা মানানো গেলে ছারপোকার আক্রমণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

বারডেমের হাসপাতাল ও অ্যাডমিন অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক শহিদুল হক মল্লিক বলেন, বারডেম ১ এর ১৬ তলা ভবনের মধ্যে পাঁচ থেকে ১৫ তলা পর্যন্ত রোগীদের থাকার ব্যবস্থা। রোগীরা অভিযোগ করছেন ছারপোকার। কিন্তু রোগীদের অনেকেই তাঁর বিছানা বা বিছানার পাশের টেবিলে স্প্রে করতে দিতে চান না। অনেকে বলেন, তাঁরা চলে যাওয়ার পরে যা করার করতে। অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁর বিছানায় স্প্রে দেওয়া সম্ভব হয় না। ‘এখন আগের তুলনায় ছারপোকার আক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে’-বলে তিনি জানান।

প্রম্পট সার্ভিসেস বিডি পক্ষে পার্থ সারথি আচার্য বলেন, অনেক ক্ষেত্রে যে রোগী ছারপোকার অভিযোগ করছেন, দেখা যায়, তিনি বাসা থেকে যে কম্বল এনেছেন সেই কম্বলেই ছারপোকা। অনেক রোগী তাঁর বিছানায় স্প্রে করতে দিচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে রোগীদের সহযোগিতা পাওয়াটা জরুরি।

তবে জাহানারা গার্ডেন থেকে আসা ভুক্তভোগী এক রোগী বলেন, ‘আমি হাসপাতালে কোনো কম্বল বা বাড়তি কাপড় নিয়ে আসিনি। গায়ের কাপড় ছিল পরিষ্কার। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি ছারপোকার যন্ত্রণায়।’

পার্থ সারথি আচার্য বলেন, শুধু বারডেম হাসপাতাল নয়, যেকোনো হাসপাতাল, হোটেলের উদ্বোধনের দিন থেকেই তেলাপোকা, ছারপোকা ঢুকতে থাকে। ছয় তলা ভবনের বারডেম হাসপাতাল ২ এ ছারপোকা কম। এটি উদ্বোধনের দিন থেকেই ছারপোকা নিধনে কাজ চলছে। বারডেম ১ অনেক পুরাতন এবং বিশাল ভবন।

ইলেকট্রিক বোর্ডের ভেতরে যে ছারপোকা বসে থাকে তারা বাইরে না বের হলে মারা যায় না। ছারপোকার মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়। পুরো ভবনে একবারে অভিযান চালানোও সম্ভব না। দুই একটি ছারপোকা থেকে আবার অসংখ্য ছারপোকা জন্ম নিচ্ছে। হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশে আবর্জনা পরিষ্কার করা জরুরি। হাসপাতালের ক্ষেত্রে ছারপোকা, তেলাপোকা বা ইঁদুর নিধন চলমান প্রক্রিয়া।