মেইন ম্যেনু

পুলিশকে জানিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আ.লীগ নেতার

রাজধানীর ডেমরায় পশ্চিম সানারপাড়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক গিয়াস হত্যার নেপথ্যে তিনটি কারণ থাকতে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এলাকায় জমিজমা বেচাকেনা, সালিস বৈঠকে পক্ষপাতিত্ব এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে রহস্য উন্মোচনে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

হত্যার আগের দিন স্থানীয় লোকমান মোবাইলে গিয়াসকে ডেকে নেয়। পরদিন গিয়াসের বাড়ির দু’শ গজ দূরে একটি পুকুরপাড় থেকে গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লোকমান ও আনোয়ার ড্রাইভার নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কামাল ও লিটন নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় তাদের যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে। এদিকে খুন হওয়ার আগে নিরাপত্তা চেয়ে ডেমরা থানায় জিডিও করেছিলেন নিহত গিয়াস। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

গিয়াসের ভাই হুমায়ুন কবির বলেন, ‘খুন হওয়ার আশঙ্কায় গিয়াস ডেমরা থানায় অনেক আগেই একাধিক জিডি করে নিরাপত্তা চেয়েছিল। পুলিশ জিডির বিষয়টি গুরত্ব দেয়নি। গুরুত্ব দিলে এভাবে তার ভাইকে প্রাণ হারাতে হতো না।’ এলাকার বাসিন্দা লিটন, আনোয়ার ড্রাইভার, লোকমান ও কামালের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গিয়াসের বিরোধ ছিল। তারাই গিয়াসকে খুন করেছে বলে সন্দেহ করেন হুমায়ুন কবির।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সকাল ১১টার দিকে গিয়াসের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ডেমরায় জানাজা শেষে বিকেলে নিহতের লাশ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার গ্রামের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি সৈয়দ নরুল ইসলাম জানান, লোকমানই আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসকে মোবাইল করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই গিয়াসের গলা কাটা লাশ উদ্ধার হয়। এ হত্যার সাথে লোকমান জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের জড়িত আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লোকমানের কাছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরো জানান, এলাকায় বিচার-সালিশ করতেন গিয়াস। পক্ষ-বিপক্ষের কারণ তার অনেক শত্রুও তৈরি হয়। এ ছাড়া এলাকা জমি বেচাকেনা সংক্রান্তে তার অনেক শক্র ছিল। মূলত এসব নিয়ে বিরোধের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আরো কিছু পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

ডেমরার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কাউসার আহম্মেদ বলেন, ‘লোকমান ও আনোয়ার ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই এই মামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

থানায় জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জানান, হুমকির বিষয়ে অনেক আগে গিয়াস জিডি করেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি কারণকে সামনে রেখে এই মামলার তদন্ত করা হচ্ছে। এরমধ্যে দলীয় কোন্দল, রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর গিয়াসের মোবাইল ফোন নম্বরে কললিস্ট সংগ্রহ করে যাচাই বাছাই করছে পুলিশ। সেখান থেকে ওই রাতে গিয়াসকে কারা ফোন করে ডেকে নিয়েছিল তা বের করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সূত্র জানায়, গিয়াস এলাকার বিচার-সালিশে যেকোন একটি পক্ষের কাছ থেকে টাকা পয়সাও নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি একটি বিচারের রায় ওই এলাকার লিটন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিপক্ষে যায়। গিয়াস এলাকার বিচারের পাশাপাশি ওই এলাকার টেম্পুস্ট্যান্ডের চাঁদার টাকা নিতেন। এ ছাড়া আগে থেকেই লোকমান, কামাল ও আনোয়ার ড্রাইভারের সঙ্গে বিরোধ চলছিলো।

পুলিশের ধারণা লিটনের সঙ্গে এই পক্ষটি হাত মেলায়। এরপর তারা পরিকল্পিতভাবে গিয়াসকে খুন করে। ঘটনার পর থেকে লিটন ও কামাল পলাতক রয়েছে। তবে এলাকা ছাড়ার আগেই পুলিশের হাতে আটক হন লোকমান ও আনোয়ার ড্রাইভার। আটককৃতরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত শনিবার সকালে ডেমরায় পশ্চিম সানারপাড়ে নিজ বাড়ির দু’শ গজ দূরে একটি পুকুর পাড় থেকে এনামুল হক গিয়াসের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন সারুলিয়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক গিয়াস। সকালে দেয়ালঘেরা পুকুরপাড়ে আওয়ামী লীগ নেতার লাশ পড়ে থাকতে দেখে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা সেখানে ছুটে এসে লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।