মেইন ম্যেনু

পুলিশি আদরে নিরাপদে ফারিজ!

গুলশানে সাবেক এমপি ইকবালের ভাতিজার গাড়িতে চাপা পড়ে শিশু নিহতের ঘটনার তিনদিন পর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে ‘এ ঘটনায় পুলিশ আসলে কাকে খুঁজছে?’ গত সোমবার বিকেলে গুলশান ১৪ নম্বর সড়কে কার রেসিং-এর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার পর পুলিশ গাড়িচালক ফারিজ আহমেদকে খুঁজছে জানালেও ঘটনাস্থল থেকে ফারিজকে পুলিশই নিয়ে গেছে নিরাপদে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। সূত্র বলছে, সে যেহেতু মালয়েশিয়ায় পড়ালেখা করে, মামলা না হওয়ায় দ্রুতই সে দেশত্যাগ করবে।

12118905_847076008722909_7658054316206979005_n (1)

ঘটনা একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দাবি করে, গাড়ি আটক হয়েছে এবং মালিককে খোঁজা হচ্ছে। তবে ঘটনার পর দিন পর্যন্ত মালিক কে তা বলতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে ১৬ বছরের চালক কিশোর একসময়ের প্রভাবশালী এমপি ইকবালের ভাই এইচবিএম জাহিদুর রহমানের ছেলে। এমনকি গাড়ির মধ্যে অ্যালকোহলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে একদিন পরই জানান পুলিশেরই এক ঊর্ধ্বতন কর্মকতা। যদিও ফারিজ ঘটনার ৩০ মিনিট আগে অ্যালকোহলের বোতলসহ ছবি আপ করেছিল বলে ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে।

moja-loss

 

 

উপরের প্রথম ছবির অ্যালকোহল-এর ছবিটি ঘটনার আধা ঘণ্টা আগে স্ন্যাপচ্যাটে দেওয়া বলে দাবি করেছেন ফারিজের ফেসবুক বন্ধুরা। ছবিগুলো ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার দিন মাঝরাতেই গণমাধ্যমে প্রকাশের আগেভাগেই সব ডিলিট করে দেওয়া হয়। যদিও ততক্ষণে স্ন্যাপশটে ভরে গেছে ফেসবুক। পুরো বিষয়টা সামাল দেওয়ার জন্য তারা সময় পেয়েছে পুরো ২৪ ঘণ্টা।

এদিকে গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়ায় যেভাবে বলা হচ্ছে, বিষয়টি ততটা জটিল নয়। সামান্য বিষয়কে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় মামলা ঠেকাতে পরিবারের পক্ষে দেদারসে টাকা খরচ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার খরচও দিয়েছে এই পরিবার। তারা কোনও অভিযোগ না করায় মামলা হয়নি এবং চিকিৎসার সব খরচ পেয়ে আহতরা খুশি।

এ ঘটনায় এক শিশু নিহতের ঘটনা সোমবার স্বীকার করলেও মঙ্গলবার থেকে কেবল চারজন আহতের কথাই বলছেন এই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রায় একই সময়ে এক মিনিবাসের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়েছে বলে জানানো হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে ৪ জনকে আহত করার পর পুলিশ ওই কিশোরকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। তার নাম ফারিজ রহমান। বাবা এইচবিএম জাহিদুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। তার ভাই এইচবিএম ইকবাল ১৯৯৬ সালে ঢাকার রমনা-তেজগাঁও আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। ফারিজকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন তাদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করায় সম্প্রতি তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে সে দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে।

জানা গেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ফারিজের (১৬) ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এর পরও সে গুলশানের কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে Toyota Fortuner SUV বিলাসবহুল গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল এবং একইসঙ্গে মোবাইলে ভিডিও করছিলো।

ছবি ২

ফারিজের বাবা এইচবিএম জাহিদুর রহমান Innotel Hotel, Baton Rogueসহ আরও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। মা প্রিমিয়ার ব্যা্ংকের পরিচালকদের একজন। গত পরশু রাত থেকেই ছেলেকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন তারা।

ঘটনার পর সাবেক সংসদ সদস্যের এই ভাতিজার ঘটনা ধামাচাপা দিতে গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম সহায়তা করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য, ‘ওই ছেলে গাড়ি চালানোর সময় একজন পথচারী হুট করে সামনে চলে এলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। গাড়িটি আটক রাখলেও ওই ছেলেকে তার বাবার হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।’

এছাড়া পুলিশ বলছে কেউ অভিযোগ করেনি বিধায় মামলা হয়নি। এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ মামলা করতে পারে কি না প্রশ্নে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, এরকম দুর্ঘটনায় পুলিশ নিজে থেকেই মামলা করতে পারে। আর শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাকে তাৎক্ষণিক প্রসিকিউশন দিয়ে পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা তখনই ঘটে যখন প্রভাবশালী পরিবারের কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে। এই পুরো ঘটনায় পুলিশের অস্বচ্ছতা এবং প্রভাবশালীর হস্তক্ষেপ স্পষ্ট।বাংলা ট্রিবিউন