মেইন ম্যেনু

পুলিশের ওয়েবসাইট হ্যাক করে হুমকি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে

হাওড়া সিটি পুলিশের ওয়েবসাইট হ্যাক করে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রি মমতা ব্যানার্জীকে সরকার ছাড়ার হুমকি দিল সাইবার অপরাধীরা৷ রবিবার বিষয়টি হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা এক ছাত্রের নজরে আসে৷ সে পুলিশকে বিষয়টি জানায়৷ সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেয় হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানা৷ ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয় হ্যাক করা ‘পোস্ট’টি৷ যদিও এর পর আবার ওয়েবসাইটটি হ্যাক করা হয়৷ হাওড়া কমিশনারেটের ডিসি (সদর) জানিয়েছেন, এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে৷ পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে৷ পুরো বিষয়টির তদন্ত চলছে৷ প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযোগের আঙুল উঠেছে অঙ্কুশ মাইনি নামে একজনের দিকে৷ তার ফেসবুকেও একই ধরনের ‘পোস্ট’-এর হদিশ মিলেছে৷ অঙ্কুশ নামে ওই ব্যক্তি নিজেকে দিল্লির আইআইটি-র ছাত্র বলে পরিচয় দিয়েছে৷ যদিও পুলিশের ধারণা, ওই ফেসবুক অ্যাকাউণ্টটি ভুয়া৷ সত্যিই ওই নামে আইআইটির ছাত্র আছে কি না, তা জানতে হাওড়া পুলিশের পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচেছ৷ আরও কিছু তথ্য পেতে যে ছাত্রের নজরে বিষয়টি এসেছিল, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷
এর আগে বারবার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে সাইবার অপরাধীরা৷ কিছুদিন আগেই রাজ্য সরকারের একটি ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়৷ তার আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছিল৷ সাইবার অপরাধীরা একাধিকবার হ্যাক করেছে সিআইডি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন্ সরকারি ওয়েবসাইট৷ প্রত্যেকবারই গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তদন্ত করেছে৷ এবার হাওড়া সিটি পুলিশের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের ঘটনাও পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে৷
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার শিবপুরের ওই ছাত্র তার পড়াশোনার জন্যই হাওড়া পুলিশ সম্পর্কে কিছু তথ্য খোঁজার জন্য ওয়েবসাইটটি খোলে৷ দেখা যায়, ওয়েবসাইটটি হ্যাক করা হয়েছে৷ হোম পেজেই লেখা রয়েছে, ‘হ্যাকড বাই ফ্যাগন্ঠসেক’৷ তার নিচে হুমকি দিয়ে লেখা ‘লিভ গভর্নমেণ্ট মমতা দিদি’৷ এ ছাড়াও হাওড়ার পুলিশ কমিশনার দেবেন্দ্রপ্রকাশ সিংকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হয়৷ ওই ছাত্র বিষয়টি দেখে প্রথমেই শিবপুর থানাকে জানায়৷ শিবপুর থানার তরফ থেকে বিষয়টি জানানো হয় বোটানিক্যাল গার্ডেন থানাকে৷ এর পর হাওড়া সিটি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চকেও ওই ছাত্র ঘটনাটি জানায়৷ স্পেশাল ব্রাঞ্চের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় সাইবার ক্রাইম থানার সঙ্গে৷ সাইবার ক্রাইম থানা বিষয়টি দেখেই ব্যবস্হা নেয়৷ ওয়েবসাইট থেকে তুলে ফেলা হয় ওই হ্যাক হওয়া পোস্টটি৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করে৷
এদিকে, এর ঘণ্টা দেড়েক বাদে আবার হাওড়া সিটি পুলিশের ওয়েবসাইটটি হ্যাক করে হ্যাকাররা৷ তা দেখতে পেয়ে ফের পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকরা৷ হাওড়ার গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, যেহেতু একবার ওই হ্যাকার ওয়েবসাইটটির পাসওয়ার্ড ভাঙতে পেরেছে, তাই সে বারবার একই অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে৷ তাই রাতের মধ্যেই ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে তা আরও সুরক্ষিত করার চেষ্টা করে পুলিশ৷ সোমবার থেকে ওয়েবসাইটটি হ্যাক হওয়ার কোনও খবর আসেনি৷ গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করে যে কম্পিউটার থেকে হ্যাকিং করা হয়েছে, তার আইপি অ্যাড্রেস জানার চেষ্টা করছেন৷ ওই আইপি অ্যাড্রেস ধরে সাইবার অপরাধীর সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে৷ আবার অনেক সময়ই দেখা যায় যে, সাইবার অপরাধীরা ‘সার্ভার বাউন্স’ করায়৷ কোনও বিদেশি ‘সার্ভার’ থেকে ‘বাউন্স’ করালে যে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে হ্যাকিং করা হয়েছে, তার হদিশ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়৷ একইসঙ্গে পুলিশ ফেসবুক সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করছে৷ অঙ্কুশ মাইনি নামে ওই ব্যক্তির আসল পরিচয় কী, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷