মেইন ম্যেনু

পুলিশের ‘গড়িমসি’, নতুন ফোর্স চায় দুই করপোরেশন

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, দুই সিটি করপোরেশনই সিটি এনফোর্সমেন্ট টিম বা সিটি পুলিশ চায়। করপোরেশনের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, সম্পত্তি রক্ষাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ‘অসহযোগিতার’ কারণে নতুন এ বাহিনী গঠনের কথা বলছে সংস্থাটি।

আর এ জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আবেদনও জানানো হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে এ দাবি জানিয়ে আসছে দুই সিটি করপোরেশন।

দুই করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ দখলদারদের হাতে চলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনো সহযোগিতা করছে না পুলিশ। নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আলাদা সিটি এনফোর্সমেন্ট টিম বা সিটি পুলিশ গঠনের তাগিদ দিচ্ছে তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক কর্মকর্তা জানান, নাগরিক সেবার জন্য নগরীর ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখা, সড়ক ও ফুটপাথে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী অপসারণ এবং করপোরেশনের সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব। এসব অবৈধ দখল এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অবকাঠামো উচ্ছেদ করতে প্রায়ই পুলিশের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স না পাওয়ায় করপোরেশনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

কর্মকর্তারা আরো জানান, সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনমতো পুলিশ ফোর্স চাওয়া হলে তা পাওয়া যায় না। তা ছাড়া অন্যান্য স্বাভাবিক দিনেও পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ফোর্স দিতে গড়িমসি করা হয়। এ কারণে অনেক সময় শিডিউল থাকলেও কর্মসূচি বাতিল করতে হয়। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালানোয় সমস্যা দেখা দেয়। তা ছাড়া নিজেদের সম্পত্তি রক্ষায় নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। কর্মকর্তারা তদারকি করলেও দখলদাররা তাদের চেয়েও শক্তিশালী। তাই করপোরেশনের নিজস্ব একটি বাহিনী থাকলে অনেক ভালো হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা করপোরেশনের বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তিগুলো রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাদের অসাধু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। এজন্য বাহিনীটির প্রয়োজন বোধ করছে সংস্থাটি।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বাজেট বক্তৃতায় সংস্থার তৎকালীন প্রশাসক মো. ফারুক জলিল বলেছিলেন, ‘নগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে সার্বিকভাবে সহযোগিতার জন্য আলাদা সিটি এনফোর্সমেন্ট টিম অথবা সিটি পুলিশ থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি সদাশয় সরকারের বিবেচনার জন্য নীতি নির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

এ বিষয়ে সংস্থার সচিব খান মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নগর পুলিশ খুব প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তারা চাইলেই হয়। করপোরেশনের নিজস্ব একটি বাহিনী থাকলে আর সমস্যা হয় না।’