মেইন ম্যেনু

পুলিশের দেয়া জঙ্গিদের ছদ্মনাম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ

পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের নাম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ১ জুলাই শুক্রবার রাতে গুলশানে ভয়াবহ হামলার ঘটনার পরপরই ফেসবুকে ৫ জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে আইএস। এরপর পরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে একে একে বের হয়ে আসে প্রায় সবগুলো জঙ্গির নাম ও পরিচয়।

হামলাকারীদের পরিচয় তুলে ধরেন তাদেরই দীর্ঘদিনের পরিচিতজনেরা। তাদের নাম রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সাবিহ মুবাশ্বের, নিব্রাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

এরপরে ৩ জুলাই পুলিশের আইজিপি শহীদুল ইসলাম বলেন, ওই দিনের কমান্ডো অভিযানে নিহত জঙ্গিদের নাম আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন, রিপন।

আইএস নিজে এবং জঙ্গিদের পরিচিতজনরা যেখানে নিমেষেই তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করে ফেলছে সেখানে পুলিশের আইজিপির এই ছদ্মনাম প্রকাশকে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। তাদের মতে তদন্তের মাধ্যমে কোনো রকম পরিচয় না জেনেই নিজের মতো করে এই নামগুলো বলেছেন তিনি।

এই বিষয়ে ব্লগার ও সাংবাদিক আরিফ জেবতিক তার ফেসবুকে লিখেছেন, এই ছন্দ মেলানো নামগুলো কোনো ছড়াকার অফিসারের সুকোমল প্রতিভায় প্রকাশ করা হয়েছে, তার নাম প্রকাশ করা হোক এবং তাকে শাস্তি দেয়া হোক। জঙ্গিদের পরিচয় না জানেন তো বলবেন তো পরিচয় পাইনি, নিজেদের মতো করে ছড়াচর্চার জায়গা এটা নয়।

আপনাদের এসব যথেচ্ছা কর্মকাণ্ডে বড় বড় ঘটনাগুলো গুরুত্ব হারায়, জনগণ আপনাদের বয়ান অবিশ্বাস করা শুরু করে। নিজেদের অফিসার হারানোর পরে ও যদি হুশ না হয়, তবে কবে হুশ হবে আপনাদের? জঙ্গী পরিচয় গোপন করতে এসব কাল্পনিক নাম সরবরাহের দায় কে নেবে, সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আইজিপির স্পষ্ট জবাব চাই। আমাদের প্রত্যেকের জীবন ছুরির সামনে ধুঁকছে, সেই জীবন নিয়ে আপনাদের ইতরামি করার কোনো অধিকার নেই, মাইন্ড ইট।

প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেন আরেক সাংবাদিক শরিফুল হাসানও।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, গুলশানের ঘটনার তিনদিন পর এবার এইদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিয়ে কয়েকটা কথা বলতে চাই। আপনাদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা এমনকি শতভাগ ব্যর্থতাও মানা যায় কিন্তু এমন একটা ঘটনায় আপনাদের নোংরা স্থুল মানসিকতার মিথ্যাচারিতা কোনোভাবেই মানা যায় না। আচ্ছা বলেন তো কার বুদ্ধিতে জাতির এমন দুর্যোগকালে আপনারা হামলাকারীদের নাম আকাশ, বিকাশ, ডন, রিপন, বাঁধন দিয়েছিলেন? একবারও মনে হলো না এমন ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে? কী ভেবেছিলেন জাতি এদের পরিচয় বের করতে আপনাদের মতোই ব্যর্থ হবে?

একবার ভাবুন তো আপনাদের এই স্থুল গল্প বিশ্বাস করলে কী দাঁড়ায়? তার মানে কয়েকজন হিন্দুও হামলায় জড়িত। এই কথা বলে আপনারা একটা সংখ্যালঘু কমিউনিটিকে আক্রমণের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। আর আমার কোনোভাবেই মাথায় আসে না এমন একটা ভয়াবহ ঘটনার পর কীভাবে দায়িত্বহীনভাবে এমন মিথ্যা নাম দেওয়া যায় তাও এমন ক্রান্তিকালে?

এতো বড় একটা ঘটনার পরও কী আপনাদের বোধ বুদ্ধি ফিরলো? ফিরলে তো আকাশ বিকাশ নাম দিতেন না? কেন ঘটনার পর আপনারা ফেসবুক দেখেননি? পরিচয় বের করার চেষ্টা করেননি?

সারা দুনিয়া এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। জিম্মি ঘটনা চলাকালেই মধ্যরাতেই কিন্তু আইএসএর সাইটে নিহত বিদেশিদের রক্তমাখা ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ ছবি পাঠানোর আগেই আইএস হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছে। বোঝাই যায় এই জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক সহায়তা পেয়েছে। তারপরেও আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে বলেন দেশের লোকজনের পরামর্শেই তারা কাজ করছে। বিদেশিদের সঙ্গে এদের যোগাযোগ আছে বলে মনে হয় না। আমার প্রশ্ন আপনাদের এই মনে হওয়া শেষ হবে কবে?

পুলিশ যে নিহত পাঁচ জঙ্গি ছাড়া আরেকজনকে ধরেছে সেটাও কী ঠিক? কারণ এই অভিযানে যারা অংশ নিয়েছে তাদের সবার নাম পরিচয় প্রশিক্ষণের আগেই জানা ছিল আইএসএর। তাই ঠিক সেভাবেই তারা ছবি প্রকাশ করেছে। এর বাইরে আর কেউ আছে কী? থাকলে তার নাম কী? বাড়ি কই? বাবা–মা কী করে? আকাশ বাতাস জন ডন বানায়েন না। গুগলে ফটো দিয়ে গুগলকে বলেন বের করে দিতে বলেন। না হলে ছবি ফেসবুকে দেন।

আরেক সাংবাদিক ও লেখক রাজীব হাসান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ফেসবুকে আপনারা যখন হামলাকারীদের নাম পরিচয় বের করে ফেলেছেন, তারও চার ঘণ্টা পরে পুলিশের আইজিপি বলেছেন, ওদের নাম: আকাশ, বিকাশ, ডন, রিপন, বাঁধন!

জঙ্গিরা একে একে জবাই করছিল ২০ জনকে, দীর্ঘ সময় লেগেছে। তখন ইনারা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ/আলাপ-আলোচনার পথ খুঁজছিলেন? ১৪ ঘণ্টা পরে কমান্ডো ট্রেনিংয়ের ব্যাখ্যা কী?

এত কিছুর পর কালকেও এনারা সব অস্বীকার করে বললেন, আইএস বলে কিছু নেই! জঙ্গীদের নাম, বাঁধন, আকাশ, বিকাশ, ডন।