মেইন ম্যেনু

পুলিশের সাথে সমঝতা করে চামড়া ঢুকছে হাজারীবাগে

সরকার যখন হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী স্থানান্তর নিয়ে ব্যাস্ত। তখন ট্যানারীর মালিকরা সরকারী নির্দেশনা ভঙ্গ করেই রাতের আধারে কাঁচা চামড়া ট্যানারী ঢুকাচ্ছে। আর এটা করছে পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করে অথবা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাজারীবাগের এক ব্যবসায়ী বলেন, দিনে কাঁচা চামড়া প্রবেশে কড়াকড়ি থাকলেও রাতে ঢুকছে চামড়াবোঝাই ট্রাক। টহল ও চৌকির পুলিশ অবশ্য চামড়া ঢুকছে না বলে দাবি করেছে।

ঘড়ির কাঁটায় শনিবার রাত ১২টা। ঢাকার লালবাগের পোস্তার আড়তে ট্রাকে কাঁচা চামড়া তুলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। চামড়া কোথায় যাবে জানতে চাইলে এক শ্রমিক বলেন, হাজারীবাগ ট্যানারিতে। ওই শ্রমিকের কাছ থেকে আরও জানা গেল, রাত দেড়টার মধ্যে ছালাম ট্যানারিতে ট্রাক পৌঁছে যাবে। এরপর রাত ১টায় হাজারীবাগে গিয়ে দেখা যায়, ছালাম ট্যানারির শ্রমিকরা ট্রাক থেকে চামড়া নামাতে অপেক্ষা করছেন। সেখানকার এক শ্রমিক বলেন, ট্যানারির বিপরীতে গেটের মধ্যে ট্রাক ঢুকিয়ে চামড়া নামানো হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হজরত আলী বলেন, এখন আর কোনোভাবে হাজারীবাগে চামড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। এর পর থেকে আবার তা বন্ধ আছে। পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ট্যানারিতে চামড়া ঢুকলে ওই ট্যানারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস, ফুটওয়্যার একপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বলেন, কিছু ট্যানারি আর্থিক সংকটে রয়েছে। তারা হাজারীবাগে চামড়া নিতে পারে। তিনি বলেন, এখনও কোনো ট্যানারি বন্ধ করা হয়নি। এ কারণে এমনটা হচ্ছে। ট্যানারি বন্ধ করে দিয়ে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা করা উচিত।

গত শনিবার রাতে ঝিগাতলা মোড়, হাজারীবাগ বটতলা, ট্যানারি মোড় ও রায়ের বাজার পেট্রোলপাম্পের সামনে পুলিশের পাহারা দেখা গেছে। এর পরও বেশিরভাগ ট্যানারির মধ্যে ট্রাক দেখা গেছে। কোনো ট্রাক থেকে চামড়া নামানো হচ্ছে। কোনো ট্যানারিতে খালি ট্রাক রয়েছে। পোস্তার আড়তের এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, প্রতি রাতেই চামড়া যাচ্ছে হাজারীবাগে। এখানকার আড়তদাররা জানান, দাম অর্ধেকে নেমে আসার সুযোগে অনেক ট্যানারি মালিক কাঁচা চামড়া কিনে রাখছেন।

প্রসঙ্গত, হাজারীবাগের ট্যানারি স্থানান্তরে বাধ্য করতে গত ১ এপ্রিল থেকে কাঁচা চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। তবে গত ৩ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত তা শিথিল করা হলেও ১১ এপ্রিল থেকে আবারও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। (সমকাল)