মেইন ম্যেনু

পুলিশের হাত থেকে অপরাধীর ‘ছুরি’ নিয়ে পালাল কাক, পিছনে ছুটে মরল পুলিশ

রানির হার চুরি করে সাপের গর্তে ফেলে ছানাদের বাঁচিয়েছিল কাক। সেখানে কাকের পিছনে পড়ি কী মরি করে ছুটেছিল পেয়াদারা। সেই গল্প সবারই কম বেশি জানান। কিন্তু বাস্তবেও তেমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কানাডায়। দেশটির ভ্যাঙ্কুভারে পুলিশের হাত থেকে অপরাধীর ‘ছুরি’ নিয়ে পালাল একটি কাক। তার পিছনে ছুটে মরল পুলিশ।

সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভারের এক পার্কিং লটে রাখা একটি গাড়িতে আগুন লেগে গিয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে তেড়ে যায় তাদের দিকে। বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশ যখন আহত আততায়ীকে নিয়ে ব্যস্ত, তখনই তার ছুরিটি নিয়ে চম্পট দেয় একটি কাক।

প্রমাণ লোপাট হয়ে যাওয়ার ভয়ে এক পুলিশকর্মীও তার পিছনে ছুটতে থাকেন। কাক অবশ্য কিছুটা উড়েই ছুরিটি ফেলে দেয়। এর পরেও অবশ্য কারও চশমা কেড়ে নিয়ে, আলোকচিত্রীর যন্ত্রপাতি চুরি করে সে নাজেহাল করে দেয় সকলকে।

তবে ভ্যাঙ্কুভারের বাসিন্দারা কাকেশ্বরের এমন দুষ্টুমির সঙ্গে পরিচিত। পায়ে লাল প্লাস্টিকের রিং-বাঁধা কাকটির নাম ‘ক্যানাক’। তাকে নিয়ে আস্ত একটি ফেসবুক পেজ’ই রয়েছে— ‘ক্যানাক অ্যান্ড আই’। সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন ভ্যাঙ্কুভারের বাসিন্দা শন বার্গম্যান। ফেসবুক পেজটির ‘ফলোয়ারে’র সংখ্যা কমপক্ষে ২২ হাজার। ইউটিউবেও ‘ক্যানাকে’র নানা কীর্তির ভিডিও রয়েছে।

শন জানিয়েছেন, ছানা অবস্থাতেই বাসা থেকে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল ‘ক্যানাক’। তাকে বড় করে তুলেছেন শনের বাড়িওয়ালার পুত্র। পরে ক্যানাককে বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে বৃহত্তর জগতে পাঠিয়ে দেওয়া হলেও সে ফিরে এসেছে শনদের বাড়ির কাছে। প্রতিদিন অফিস যাওয়ার সময় শনকে বাসস্টপ পর্যন্ত এগিয়েও দেয় তাঁর প্রিয় বন্ধু!

যখন তখন কারও গাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়া, ঘোড়দৌড়ের মাঠে ঘোড়াদের পিঠে চেপে বসা, ট্রেনের মাথায় চড়ে ঘুরে আসা—এইসবই ক্যানাকের পছন্দের কাজ। চাবি-চোর হিসাবেও তার সুখ্যাতি রয়েছে। নিউ ইয়র্কের পক্ষী বিশেষজ্ঞ কেভিন জে ম্যাকগোয়ানের মতে অবশ্য ক্যানাক যা করে, মানুষকে ভালবেসেই করে। বয়স অল্প হওয়ায় বয়সোচিত দুষ্টুমিও স্বাভাবিক!