মেইন ম্যেনু

পুলিশ প্রধানের বক্তব্য অনভিপ্রেত : বিএনপি

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘দায়িত্বশীল বক্তব্য’ দিতে পুলিশ প্রধান শহীদুল হকের পরামর্শকে ‘অনাকক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত’ হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের এই ধরনের ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ দেওয়া থেকে বিরত থেকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে দলটি।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

শনিবার এক ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পুলিশই আমাদের আন্দোলনের সময় পেট্রোলবোমা মেরেছে। শুধু বোমা হামলাই নয়, বাসে আগুনও দিয়েছে তারা।’

এর প্রতিবাদ করে রোববার এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শহীদুল হক বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা চাইব সমাজে যারা দায়িত্বশীল, তারা দায়িত্বশীল কথা বলুক। কারা পেট্রোলবোমা মেরেছে, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, তা সূর্যের আলোর মত স্বচ্ছ। কোনো অন্ধকার দিয়ে তা ঢাকা যাবে না।’

এর প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, ‘এ কথা বলে তিনি কি ইঙ্গিত করেছেন জানিনা। তবে আমাদের দলের অবস্থান হচ্ছে, আন্দোলনের সময়ে সৃষ্ট নাশকতার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি বিএনপি প্রধান অনেক আগেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কল্পিত মামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ প্রধানের কাছ থেকে যখন এই ধরনের বক্তব্য আসে, তখন স্বাভাবিকভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা মনে করি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে যারা আছেন, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তাদের কথা বলা উচিত নয়। এতে বাহিনীর অধস্তনরা ওই দলের প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন হন। তখন গণতান্ত্রিক স্পেস তো দূরের কথা, লাইফ স্পেসও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে যাই।’

পুলিশ প্রধান হিসেবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো বক্তব্য দিতে শহীদুল হকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিপন বলেন, ‘একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলের প্রধানকে লক্ষ্য করে পুলিশ প্রধানের এই ধরনের বক্তব্য শোভন নয়। বিএনপি প্রধান নাশকতার জন্য সব পুলিশকে দায়ী করেননি। তিনি বলেছেন, কিছু কিছু সদস্য এই কাজ করেছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নিশ্চয়ই তার পর্যবেক্ষন ও প্রমাণ আছে। তার বক্তব্যের বিপরীতে কোনো বক্তব্য থাকলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী বলতে পারতেন। তাহলে বুঝতাম, বিষয়টি রাজনৈতিক বাদানুবাদ। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের দেওয়া বক্তব্য দৃষ্টিকটু।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী কি শুধু আওয়ামী লীগের? প্রত্যাশা করি, বাহিনীর ভাবমূর্তির স্বার্থে সদস্যরা সংবেদনশীল এবং সংযম প্রদর্শন করবেন। রাজনীতিবিদদের মতো কথা বলা তাদের দায়িত্ব নয়।’

শিক্ষা খাতে হ য ব র ল অবস্থা চলছে মন্তব্য করে রিপন বলেন, ‘বিনা ভোটের মন্ত্রী হওয়ার কারণে তারা সচিবদের প্রতি তাদের আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারছেন না। সে কারণে মন্ত্রীর সামনে সচিব ছক্কা মারার কথা বলছেন। এই ধরনের বক্তব্য সরকারি চাকরির বিধিবিধানের মধ্যে পড়ে না। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা কোনো জায়গায় উপনীত হয়েছে।’

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে লটারী হচ্ছে। এর ফলে ভিকারুন নিসা নূন কলেজে ছেলেদের নাম যাচ্ছে আর বিজ্ঞান কলেজে বাণিজ্য শাখার ছেলেমেয়েদের নাম যাচ্ছে।

‘আমাদের ছেলেমেয়েদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দায়িত্ব সচিবকে দেওয়া হয়নি। তিনি এই সাহস কোথায় পেলেন,’ প্রশ্ন রাখেন রিপন।

ভর্তি নিয়ে নৈরাজ্য স্বীকার করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসের জন্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে ধন্যবাদ জানান বিএনপির এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আসাদুল করিম, ড. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, অ্যাডভোকেট জন গোমেজ, শামসুল আলম তোফা উপস্থিত ছিলেন।