মেইন ম্যেনু

পুলিশ সুপার অনুপস্থিত বলে সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা স্থগিত!

পুলিশ সুপার অনুপস্থিত বলে সংসদ সদস্যদের ক্ষোভের মুখে বন্ধ হয়ে গেল সাতক্ষীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা। শেষ পর্যন্ত সভা মুলতবি করে আগামী ১৮ অক্টোবর এই সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার বেলা পৌনে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই সভা শুরু হয়।

সভার একাধিক সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কমিটির উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন পুলিশের পক্ষে উপস্থিত দুইজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। এতে সংসদ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশ সুপারের উপস্থিতির আবশ্যকতা তুলে ধরেন এবং তার উপস্থিতিতেই সভার আলোচনা করতে বলেন। একই সাথে তার অনুপিস্থিতির বিষয়টি রেজুলেশন করে ক্যাবিনেট সচিব বরাবর প্রেরণের কথা বলেন। একপর্যায়ে সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, সামনে দুর্গাপূজা, দু’জন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকরের মতো বড় একটি বিষয়, অবৈধ যানবাহন বিরোধী অভিযান ও আসামি গ্রেফতারের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয় মূলত পুলিশ সুপারেরই উপস্থাপন করা কথা। কিন্তু তিনি সভায় ছিলেন না। তার প্রতিনিধিরাও সভায় উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছিলেন না। তাই সভা স্থগিত করতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি ক্যাবিনেট সচিবের কাছে রেজুলেশন করে পাঠানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তারা দু’জনেই বলেন, প্রত্যেক সভার রেজুলেশনই ক্যাবিনেট ডিভিশনে পাঠাতে হয়, এটাই নিয়ম।

এ ব্যাপারে সভার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, এসপি সাহেব ছিলেন না তাই সভা মুলতবি করা হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর আবার সভা বসবে।

তিনি বলেন, এসপি সাহেব আমাকে আগেই বলেছিলেন, সাতক্ষীরায় ডিআইজি মহোদয় রয়েছেন- তাই তিনি আসতে পারবেন না।

এর আগের কতটি সভায় পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত তিনটি সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি আমাকে জানিয়েছেন, একটি সভার সময় তিনি ছুটিতে দেশের বাইরে ছিলেন। অন্য একটি সভার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। আর একটি সভায়ও তিনি অনুরূপ কোন কারণ দেখিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর আইনশৃঙ্খলা কমিটির পরপর চারটি সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। এটা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।