মেইন ম্যেনু

পূরণ কি হবে মান্নার শুন্যস্থান?

১৭ই ফেব্রুয়ারী ২০০৮সালের আজকের এই দিনে হাজারো ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার নায়ক মান্না। আশির দশকে নতুন মুখের সন্ধানে বাংলা চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে টাঙ্গাইলের বেড়ে উঠা এস এম আসলাম তালুকদারের। রুপালি পর্দায় পর্দাপনের পর পরিচিতি পায় মান্না নামে।

আর কি মান্নর মতো কেউ মান্না আমাদের মাঝে? মান্নার শূন্যতা কি পূরণ হবার? কে পূরণ করবে মান্নার শুন্যস্থান? এমনও হাজারও প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্র প্রাঙ্গনে।

মান্না হারিয়েছে আমাদের মাঝ থেকে ৮বছর হয়ে গেছে। আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের কোন পরিবর্তন আসেনি। নির্মিত হয়নি ব্যবসায়ী সফল ছবি। মান্নার অকাল চলে যাওয়াতে অনেক পরিচালক বিগত ৮বছরে তুলতে পারেনি সেই ক্ষতির হিসাব। বলতে গেলে মান্না আমাদের প্রতিনিয়ত দিয়েছেন ব্যবসায়ী সফল ছবি। আজকে কে ধরবে মান্নার হাল?

মান্না বাংলা চলচ্চিত্রের প্রাণ ছিলেন। মান্না মানেই ছিল দর্শক পাগল করা অভিনয়। আশির দশকে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় আগমন ঘটে টাঙ্গাইলের এস এম আসলাম তালুকদারের। রুপালি পর্দায় পরিচিত হন মান্না নামে।

একে একে প্রায় ৪শ ছবি উপহার দেয় সিনেমা প্রিয় মানুষদের।মাত্র ৪৮ বছরে সয়সে মান্নাকে মেনে নিতে হয়েছে মৃত্যুকে। আজ সেই মান্না আমাদের মাঝে নেই, আছে শুধু তার স্মৃতি। কেউ বা আবার মনের অজান্তে মান্না নেই বলে কেঁদে উঠে।

ঢাকাই সিনেমার মন্দা সময়েও বেশ কয়েকটি ব্যবসা-সফল মুভি উপহার দিয়েছেন মান্না। মৃত্যুর সময়ও তার হাতে ছিল ডজন খানেক মুভি। ফিল্মে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

১৯৮৫ সালে নির্মিত আজহারুল ইসলাম পরিচালিত ‘তওবা’ মান্নার প্রথম মুভি। তবে প্রথম মুক্তি পায় কাজী হায়াতের ‘পাগলী’ মুভিটি।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলা সিনেমা জগতে নিজের আসন পাকাপোক্ত করতে হয়েছে তাকে।

নায়ক হিসেবে তার উত্থান ৯০ দশকের শুরুতে এসে। ওই সময় কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘চাঁদাবাজ’ নামে তিনটি হিট মুভির মাধ্যমে বাংলাদেশের সিনেমা জগতে নিজের আসন পাকাপোক্ত করে নেন মান্না।

এরপর একে একে অনেক ব্যবসা-সফল মুভিতে অভিনয় করেন মান্না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সিপাহী, আম্মাজান, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, আব্বাজান, বর্তমান, কাশেম-মালার প্রেম, শান্ত কেন মাস্তান, প্রেম দিওয়ানা, তেজী, রাজধানী, দুই বধূ এক স্বামী, ক্ষমতার গরম ইত্যাদি।

মান্না অভিনীত আম্মাজান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসা-সফল মুভি। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করাও শুরু করেছিলেন তিনি। তার প্রযোজিত প্রথম মুভি ‘লুটতরাজ’।

তার প্রযোজনায় উল্লেখ যোগ্য মুভির মধ্যে রয়েছে মনের সাথে যুদ্ধ, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, লাল বাদশা, আব্বাজান ইত্যাদি।

প্রথম দিকে চম্পার সঙ্গে জুটি বেধে বেশ কয়েকটি মুভিতে অভিনয় করেন মান্না। দর্শকরা এ জুটিকে গ্রহণ করে। এছাড়া দিতি, মৌসুমী ও শাবনূরের সঙ্গেও তার ব্যবসা-সফল মুভি রয়েছে।

মান্না সর্বশেষ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ শনিবার রাতে এফডিসির ঝর্না স্পটে রাত ১১টা পর্যন্ত আহম্মেদ নাসির পরিচালিত গরীবের ছেলে বড় লোকের মেয়ে মুভির শুটিং করেন। এরপর তিনি পৃথীবি থেকে বিদায় নেন।