মেইন ম্যেনু

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই সোমবার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ছাড়াই উদযাপিত হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আগামীকাল সোমবার তাদের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে সংগঠনটি। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ইউনিটে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির নেতৃত্বে আছেন নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। গত বছরের ২৪ আগস্ট সংগঠনটির ২৮তম সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম সোহাগকে সভাপতি ও জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি দেয়ার আভাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু এই সাড়ে চার মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেননি তারা। এখন কবে কমিটি দেয়া হবে তা চাপা পড়েছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তোড়জোড়ে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে চলছে দেয়াললিখন। নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সোমবার বেলা দুইটায় কলাভবন-সংলগ্ন ‘অপরাজেয় বাংলা’র পাদদেশে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান।

এদিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল আটটায় ঢাবি ফজলুল হক হলে কেক কাটা; বেলা ১১টায় শোভাযাত্রা ও মিষ্টি বিতরণ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগের ঘোষিত পাঁচ দিনের অন্যান্য কর্মসূচি হলো: ৫ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় রক্তদান; ৬ জানুয়ারি দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ; ৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিতরণ ও পাঠচক্র উদ্বোধন এবং এবং ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী।কিন্তু

দেশের প্রাচীনতম ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ দেশের গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এই সংগঠন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অনিয়ম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অন্তঃকোন্দলে হতাহত হওয়াসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে এখন বছরজুড়ে সমালোচনার কারণ হয় তারা।

তৃণমূল নেতাকর্মী বিশেষত রাজধানী ও তার বাইরের শাখাগুলোতে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণহীনতা চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও থানা শাখায় নেতাকর্মীদের কলহ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব থেকে উত্তরণই ছাত্রলীগের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রেরণা হওয়া উচিত বলে মনে করেন সাধারণ ছাত্ররা।

আর ৬৮তম প্রতিবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন ও সর্বোচ্চ প্রয়োগই হবে ছাত্রলীগের প্রধান এজেন্ডা।

বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণহীনতার অভিযোগ নাকচ করে জাকির হোসাইন বলেন, “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি সুশৃঙ্খল ছাত্রসংগঠন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে টু শব্দ করার কেউ নেই।”

পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা পৌর নির্বাচন ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এদিকে সময় দিতে পারিনি। আশা করি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারব আমরা।”

‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি’ স্লোগান নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’ নামে গঠিত হয় ছাত্রলীগ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে এই ছাত্রসংগঠন।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’ নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামকরণ করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় একঝাঁক তরুণের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।