মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর বিভিন্ন জেলে বন্দীদের উপর যে ৯টি অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয়

জেলে বন্দী সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অপরাধীদের মুখ থেকে গোপন তথ্য বা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য পুলিশ যে তাদের উপর অত্যাচার করে থাকে, এই তথ্য নতুন নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলির নানাবিধ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা যায়নি। কিন্তু কী ধরনের অত্যাচার করা হয় তাদের উপর? আসুন, জেনে নিই, পৃথিবীর বিভিন্ন কারাগারের ভিতরে বন্দীদের সঙ্গে ঠিক কী চলে।

১. কাউকে সম্পূর্ণ একা রেখে দেয়া : আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটা যতটাই নিরীহ মনে হোক, বাকি পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা যে কী মারাত্মক, তা ভুক্তভোগীই কেবল বুঝবেন। সারা পৃথিবীজুড়েই এই অত্যাচারের রীতি প্রচলিত রয়েছে।

২. মুখে কাপড় ঢাকা দিয়ে মুখ ও নাকের জায়গাগুলোতে পানি ঢালা : এতে হয় কী, নিঃশ্বাসের সময় বন্দীর অনুভূতি হয়, যেন সে পানিতে ডুবে যাচ্ছে। স্বীকারোক্তি আদায়ের সময় এই কৌশল ব্যবহার করা হয় আমেরিকায়। ভারতের পুলিশও এই কৌশল ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়।

৩. মুখে বস্তা পরিয়ে রাখা, দীর্ঘক্ষণ খালি শরীরে রাখা, শারীর হয়রানি : শুধু বন্দীদের উপর নয়, সেনাবাহিনীর কর্মীদের উপরেও তাদের ট্রেনিং চলাকালীন এই জাতীয় অত্যাচার চালানো হয়। এটা তাদের সহনশীলতা বৃদ্ধি করে বলে মনে করা হয়।

৪. ইলেকট্রিক শক দেয়া : অসম্ভব যন্ত্রণাদায়ক অত্যাচার। সারা পৃথিবীজুড়েই এই রীতি প্রচলিত রয়েছে। এই অত্যাচারের বৈশিষ্ট্য হলো, এতে বন্দীর দেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন থাকে না।

৫. দিনের পর দিন বন্দীকে ঘুমোতে না দেয়া : কোনো বন্দীকে টানা চার-পাঁচ দিন এক মিনিটের জন্যও ঘুমোতে না দিলে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সাধারণত এইভাবে কাউকে টানা জাগিয়ে রাখার পরে যদি তাকে জেরা করা হয়, তাহলে সেই অবস্থায় মিথ্যে কথা বলার মতো মানসিক জোর আর তার থাকে না।

৬. বন্দীদের মধ্যে মারামারি বাঁধিয়ে দেয়া : বন্দী‌দের মধ্যেই থাকে জেল কর্তৃপক্ষের লোক। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য বন্দীদের সঙ্গে মারামারি বাঁধিয়ে দেয়। এই ধরনের মারামারিতে অনেক সময় কোনো কোনো বন্দির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে যায়। এটাও অত্যাচারের একটি ধরন।

৭. চড়া ভলিউমে একটানা কোনো শব্দ শোনানো : হোয়াইট নয়েজের মতো শব্দ যদি একটানা কাউকে চড়া ভলিউমে শোনানো হয় তাহলে তা অত্যাচারের আকার নেয়। বন্ধ ঘরে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে বন্দীদের এই শব্দ শুনতে বাধ্য করা হয়।

৮. পরিকল্পিতভাবে বন্দীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা : ইচ্ছাকৃতভাবেই বন্দীদের খেতে দেয়া হয় মানুষের পক্ষে অখাদ্য খাবার। আমেরিকার অনেক জেলেই এই অত্যাচার করা হয়ে থাকে। এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক বন্দীই দেখা যায়, নিজেদের আচরণ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয় জেল কর্তৃপক্ষের কাছে।

৯. ড্রাগ খাওয়ানো : ড্রাগ মানুষকে স্নায়বিক দিক থেকে দুর্বল করে দেয়। ফলে ড্রাগের প্রভাবে থাকা মানুষের পক্ষে কোনো জেরার উত্তরে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যে বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৬০-এর দশকে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র পরিচালনায় এইভাবে ড্রাগের মাধ্যমে বন্দীদের কাছ থেকে কথা আদায় করার চেষ্টার পরিণামে বেশ কিছু বন্দীর মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।-এবেলা