মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর মতোই বসবাসযোগ্য হতে পারে যে ৩টি গ্রহ

আমাদের সাধারণ জ্ঞানে এবং বিশ্বাসে আমরা মনে করি পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যা মানুষের বসবাসযোগ্য। শত বছর ধরে মানব জাতি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু এইসব অগ্রগতি যেমন সত্যি তেমন এটাও সত্যি যে অনেক বিষয়ই এখনও অনাবিষ্কৃত আছে। তাই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে, আমাদের গ্রহই কি একমাত্র বাসযোগ্য? নাকি আরও গ্রহ আছে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে? আমাদের গ্রহের মত সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহেও কি আছে এক্সোপ্লানেট সাপোর্ট সিস্টেম? মহাকাশচারীরা এখনও এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। তবে এমন কিছু গ্রহ পাওয়া গেছে যারা তাদের তারাকে ঘিরে ঘুরছে এমন এক অবস্থানে যা তারাটির খুব কাছে নয় যে অনেক উত্তপ্ত হবে আবার এমন দূরত্বেও নয় যে খুব শীতল হবে। এসব গ্রহকে বলে গোল্ডিলক্স জোন।

বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন পানি। আর গোল্ডিলক গ্রহগুলোতে পানি পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনাই জীবের অস্তিত্ব পাওয়ার বা মানুষের বসবাস যোগ্যতার সম্ভাবনাকে প্রবল করে। এমন ৩টি গ্রহ সম্পর্কে জানব আজ।

Kepler-438 b
লায়রা নক্ষত্রমন্ডলীর একটি গ্রহ এটি। পৃথিবী থেকে এর অবস্থান ৪৭০ আলোকবর্ষ দূরে। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১.২ গুণ বড়। একটি কমলা বামন তারাকে প্রদক্ষিণ করে এটি। আমাদের পৃথিবীর তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশী তাপ গ্রহণ করে গ্রহটি এবং ৭০ শতাংশ বেশী পাথুরে। আপনি হয়ত ভাবছেন, বেশী তাপ এবং পাথুরে এলাকা নিয়ে কি করে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত হতে পারে গ্রহটি! আর্কিবোতে অবস্থিত পোরতো রিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনিষ্ট, এর আকৃতি, তারা থেকে দূরত্ব, শক্তি গ্রহণের মাত্রা, ইত্যাদির কারণে। পৃথিবীর সাথে এর ৮৩ শতাংশ মিল রয়েছে।

Kepler-296
এটিও নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর কাছাকাছি আকৃতির একটি গ্রহ। এর ব্যাস ১.৭৫ গুণ বড় পৃথিবীর তুলনায়। এটি পৃথিবীর ২য় ঘনিষ্ট গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি ৩৪.১ দিনে একবার কক্ষপথে ঘুরে আসে। আকৃতি, তাপমাত্রা, আবহাওয়া সব মিলিয়ে এটি গোল্ডিলক্স জোনের আওতায় পড়ে।

Gliese 667C c
এটি পৃথিবী থেকে ২৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ২০১১ সালে আমেরিকান এবং ইউরোপিয়ান মহাকাশচারীরা এটি আবিষ্কার করেন। এটি পৃথিবী থেকে ৪ গুণ বড়। প্রতি ২৩ দিন ১৪ ঘন্টায় একবার তার কক্ষপথে ঘুরে আসে। এর সূর্য থেকে এটি বেশ কাছে । অনেক বেশী পাথুরেও গ্রহটি। এরপরও এটি মানুষের বসবাসযোগ্য হতে পারে। কিভাবে? মজার ব্যাপার হল, এই গ্রহ একটি লাল বামন তারাকে ঘিরে ঘুরছে যা সূর্য থেকেও ছোট আকৃতির বলে ধারণা করা হয়। এর কারণে সৌরজগতে পৃথিবীর অবস্থান আর গ্লিয়েস ৬৬৭সি সি এর তার তারা থেকে দূরত্ব আসলে সমান। কিন্তু সমস্যা হল গ্রহটি টাইডালি লকড, যার কারণে এর এক অংশ সারা বছরই সূর্যের দিকে থাকে আর অন্য অংশটি থাকে বিপরীত দিকে। তারার দিকে মুখ করে থাকা অংশটি এতই উত্তপ্ত থাকে যে প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব। আর অপর অংশ সমানতালে ভীষণ মাত্রায় শীতল। তবুও এই দুই বৈপরীত্যের মাঝামাঝি এলাকায় জীবের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ আছে বলে ধারণা করা হয়। কারণ সেখানে তাপমাত্রা একেবারে নাতিশীতোষ্ণ যা প্রাণের টিকে থাকার সহায়ক।