মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর সবচাইতে দূষিত তিন স্থান!

পৃথিবীর সবচাইতে দূষিত স্থান কোনটি বলুন তো? ভাবছেন বাড়ির পাশের ডাস্টবিনটি? নাকি বুড়িগঙ্গার পানি? কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে পৃথিবীতে এমন অনেক দূষিত স্থান আছে যার তুলনায় আমাদের অতিপ্রিয় বুড়িগঙ্গার দূর্গন্ধময় পানি কিছুই না। বলা যায় সেই দূষণের একশ ভাগের ভেতরে মাত্র এক ভাগ রয়েছে বুড়িগঙ্গার পানিতে! কি? এবার নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করছে এই দূষিত স্থানগুলো সম্পর্কে? চলুন দেখে আসি এক নজরে।

মঙ্গোলিয়ার বাউটোউ
ভাবুন তো এমন একটা স্থানের কথা, যেখানে বাড়ি-ঘর কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক দালানকে ছাড়িয়ে ঘন হয়ে মাথা তুলে দাড়িয়ে আছে শত শত চিমনি। আর সেই চিমনি থেকে খানিক পরপরই গলগল করে বেরিয়ে আসছে কালচে আর ধুসর ধোঁয়া। ছেয়ে যাচ্ছে আকাশ ধোঁয়ার আতিশয্যে। নীলচে আকাশের কোনরকম ইশারাও নেই সেখানে। এ তো গেল আকাশের কথা। ফিরে আসুন নীচে। মাটিতে। মাটি? সত্যিকারের মাটি যদিও খুব একটা পরিশিষ্ট নেই এখানে, তবুও সেটাকে পাশ কাটিয়ে তাকান একবার পাশের মানব নির্মিত খালটির দিকে। খাল? প্রথম দেখায় এতটুকু বিষ্ময় আপনার চোখে-মুখে স্বাভাবিকই লাগবে সবার কাছে। যদি তাদের জানা থাকে এ স্থানটির অবস্থান। না, আর দশটা খালের মতন পানি নয়, তরল, আঠালো আর কালো রং এর থকথকে পদার্থে ভেসে যাচ্ছে খালটা। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে ভ্যাপসা রকমের সালফারের দুর্গন্ধ আর খানিক পরপর গর্জে ওঠা পাইপের চিত্কার! ভাবছেন, নরকের কথা বলছি? না! এটা সত্যিকারের নরক নয়, তবে পৃথিবীর ভেতরে যদি কোথাও নরক থেকে থাকে সেটি হচ্ছে এটি। পৃথিবীর সবচাইতে বাজে স্থান হিসেবেও এর ভেতরে নাম কুড়িয়েছে জায়গাটি। আর সবার চোখে এতটা ভয়ংকর আর নরকসম এই স্থানটির নাম হচ্ছে বাউটোউ। মঙ্গোলিয়ার সবচাইতে বড় শিল্প নগরী! আর আরো অনেক নগরীর মতন এই শিল্পই প্রচন্ড পরিমাণে দূষিত করে ফেলেছে এই শহরটিকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি, প্রতিদিন যে সাধারণ জিনিসগুলো অবলীলাল ব্যবহার কর চলেছি আমরা, সেই স্মার্টফোন, টেলিভিশন থেকে শুরু করে বাতাসচালিত টারবাইনের চুম্বক অব্দি তৈরি হতে সাহায্য নেয় এই বাউটোউ থেকে সরবরাহিত দুর্লভ খনিজের। এর আগে ২০০৯ সাল অব্দি চীন পৃথিবীকে এই জিনিসগুলোর ৯০ শতাংশ সরবরাহ করলেও সম্প্রতি পাওয়া এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বেশিদিন হয়নি চীনের জায়গাটা দখল করে নিয়েছে বাউটোউ নামের এই অতি অপরিচিত শহরটি। বর্তমানে পৃথিবীর প্রয়োজনীয় উপরোক্ত উপাদানগুলোর ৭০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে তারা। বাউটোউএর রাস্তাগুলোও বেশ দেখবার মতন। এখানকার রাস্তাগুলো পাইপ বাসাবার সুবিধার জন্যে একটু চওড়া করেই নির্মান করা হয়। এখানে সেখানে অর্ধনির্মিত টাওয়ার ব্লক, পাওয়ার স্টেশন, কয়েকতলার পার্কিং লট- এসবটাই যেন শহুরে আথচ প্রচন্ড বুনো একটা ভাব এনে দিয়েছে পুরো জায়গাটিতে। সেইসাথে প্রতিনিয়ত আকাশে-বাতাসে অবাধে ভেসে বেড়ানো সালফারের কটু গন্ধ তো আছেই। হ্যাঁ, উন্নতি তো হয়েছেই। তবে তার সবটাই অর্থনৈতিক ও একপেশে। সেই সাথে উন্নতির বদলৌতে অর্জনটাও যেন অনেক বেশিই হয়েছে বাউটোউ। নাম লিখিয়েছে স্থানটি পৃথিবীর অন্যতম দূষিত স্থান হিসেবে।

কাজাকিস্তানের চাগান লেক
বাস্তবে একটা জলাধার আর কতই বা দূষিত হতে পারে? যদি প্রশ্নটা আরো অনেকের মতন ঘুরে বেড়ায় আপনার মাথাতেও তাহলে আর কোন প্রশ্ন না করে এক নজর দেখে আসুন কাজাকিস্তানের চাগান লেককে। কতটা দূষিত এটি? সাধারন দূষণের একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। যার বাইরে গেলে সেটাকে ভয়াবহ রকমের দূষিত কিছু বলে মনে করা হয়। কাজাকিস্তানের এই চাগান লেক সেই সাধারন মাত্রার দূষণের চাইতে এক নয়, দুই নয়, তিন নয়, বরং একশ গুন বেশি দূষিত। নিশ্চয় ভাবছেন কি করে এত দূষিত হয়ে গেল লেকটি? না, এমন বিষাক্ত খালটি কিন্তু প্রকৃতি তৈরি করেনি। আরো অনেক কিছুর মতন এই লেকের বিষাক্ত হবার পেছনেও রয়েছে মানুষের হাত। সেসময় পারমাণবিক নানারকম অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত ছিল আমেরিকা ও রাশিয়া ( অ্যামিউসিং প্ল্যানেট )। খাল বা বাঁধ তৈরি আর মাটির গবীর থেকে তেল উত্তোলনের জন্যে সেবার বেশ জোরেসোরে পারমানবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছিল এই দুই দেশ। সেসময় আমেরিকার অপারেশন প্লউশেয়ারের দেখাদেখি নিজেদের দেশেও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থের তকমা দিয়ে পরমানু শক্তিকে ব্যবহার করে রাশিয়া। যদিও ১৯৭৭ সালে ২৭ টি পরীক্ষার পর বিষয়টির লাভজনক দিক সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ে আমেরিকা আর বাদ দিয়ে দেয় প্রকল্পটি, রাশিয়া সেটিকে চালু রাখে ১৯৮৯ সাল অব্দি। চালায় মোট ১৫৬ টি পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষাগুলোর ভেতরেই একটি পরীক্ষা চালায় চাগান নদীর ১৭৮ মিটার গভীরে। এই পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে বেরিয়ে আসে ৪০০ মিটার প্রস্থ আর ১০০ মিটার গভীরতা সম্বলিত একটি হ্রদ। আর সেটিকে জায়গা করে দিতেই নির্মাণ করে রাশিয়া চাগান খাল।

তবে পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে কাজাকিস্তানের সিমেইএ চালানো থার্মোনিউক্লিয়ার পরীক্ষার ফলাফল এই চাগান খাল বেশ বাজে রকম রূপ ধারণ করে। ধীরে ধীরে প্রচন্ড বিষাক্ত হয়ে ওঠে এর পানি। বর্তমানে এতে নেই কোন মাছ, প্রাণী বা গাছ। কোন পাখিও এই খালের কাছ দিয়ে যায়না। মানুষ তো দূরের কথা!
চেরনোবিল পাওয়ার প্ল্যান্ট

অনেক অনেক দিন আগেকার কথা। হঠাত্ করেই ইউক্রেনের প্রিপিয়াটে অবস্থিত চেরনোবিল পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের এই প্ল্যান্টটি বিস্ফোরিত হয় এবং এর ভেতরকার রেডিয়েশন পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতদিনে সবটা একদম ঠিকঠাক হয়ে গেলেও প্রিপিয়াটে ব্যাপারটা কিন্তু আগের মতনই আছে। একই রকম রেডিয়েশনে ভরা স্থানটি থেকে হুটহাট বিষাক্ত রাসায়নিক বেরিয়ে মেরে ফেলে আশপাশের অনেককে। মাঝখানের ২৫ টা বছর খুব বেশি প্রভাব রাখেনি এর ওপরে ( ডেইলি মেইল )। পৃথিবীর অন্যতম বিষাক্ত স্থানগুলোর ভেতরে নাম রয়ে গিয়েছে এই পাওয়ার প্ল্যান্টেরও।