মেইন ম্যেনু

পেটের জ্বালায় ১০০ টাকায় শরীর বেচা!

‘বেনিমাধব, বেনিমাধব আগুন জ্বলে কই? কেমন হত আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই!’ জয় গোস্বামীর সেই নায়িকারা এখন আর ভালো মেয়ে নেই, নষ্ট হয়ে গেছে! ক্ষুধার জ্বালায় মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়েই যেখানে নারীরা নিজেদের শরীর অবলীলায় অন্য পুরুষের হাতে তুলে দেয়। তুলে দেয় নিজেদের মানসম্মান, ইজ্জত, স্বপ্ন আরও কত কী। তার বদলে কুড়িয়ে নেয় বেঁচে থাকার একটু রসদ।

‘আমি এখানে গত ছয়মাস ধরে দেহব্যবসা করতে বাধ্য হয়েছি। না করেও বা উপায় কী? এখানেও আমাদের ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ছাতার নিচে করলে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হতো। ঘরে দুইটা বাচ্চা আছে। তাদেরও তো খাওয়াতে হবে! আমাদের আর কাজ কে দেবে বাবু? টাকা রোজগারের অন্য রাস্তা খোলা থাকলে আর এই জঘন্য কাজ করবো কেন?’ এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে যাচ্ছিলেন বছর ২৫ কিংবা ২৬ বছরের এক নারী। আপাদমস্তক একটি ওড়নায় ঢাকা। শুধু উঁকি মারছে ছলছলে দুটো চোখ। সেই চোখের জলই বলে দিচ্ছিল কিছু অযাচিত প্রশ্নের অজানা উত্তর।

এই গল্প শুধু ওই নারীর একার নয়। এই কঠিন বাস্তবের সম্মুখিন তার মতো আরো বেশকিছু নারী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি পরিত্যক্ত মাঠে অবৈধভাবে শরীরী খেলায় মেতে উঠছেন পুরুষ-নারীরা। মাঠের সামনেই একটা স্কুল রয়েছে, রয়েছে আবাসিক কলোনিও। কিন্তু এতেও ওই নারীদের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। তারা নিজেদের কাজেই ব্যস্ত। ক্ষুধার্থ পেটের ভাতটা তো জোগাড় করতেই হবে!

জানা গেছে, হরিয়ানা থেকে বেশকিছু নারী যৌনকর্মী এই মাঠে এসে ঠাঁই নিয়েছে। ভোরগড় জেলার ওই মাঠে তারা ঘুরে বেড়ায়। পাশেই রয়েছে আইটিআই কলেজ, শিল্পাঞ্চল এলাকা। এখানে বহু মজুর কাজ করেন। আর এই মজুরেরাই নাকি নারীদের ‘ফাঁদে পা দিয়ে’ সারাদিনের রোজগার উড়িয়ে দিচ্ছে।