মেইন ম্যেনু

পেট ভরাতে লম্বা ঘাসই এখন ভরসা!

একসময় ব্যবহার করা হত শুধু জ্বালানি হিসেবে। এখন তা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মাদুর, পাটি। ভারেঙ্গা পাতা, সাদা চোখে যাকে দেখে লম্বা ঘাসই মনে হয়।

অল্প খরচে বেশি মুনাফা লাভের আশায় উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের শ্রীমতী নদীর ধারের লম্বা ঘাসই এখন ভরসা! মানুষের রুজি রোজগারের প্রধান পথ। বড় বড় ঘাসই এখন পেট ভরাতে অন্যরকম হাতিয়ার।

এক সময় এই ঘাস শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও এখন তা দিয়ে তৈরি হচ্ছে গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় এক প্রকার মাদুর। কালিয়াগঞ্জের বুক চিরে চলে যাওয়া শ্রীমতী নদীর দুই ধারে মাঝে মধ্যেই ভারেঙ্গা নামে এক প্রকার বড় বড় ঘাসের বন দেখা যায়, যা নদীর জল পেয়ে ফুট চার পাঁচেক পর্যন্ত লম্বা হয়।

কালিয়াগঞ্জের মানুষ বাড়তি উপার্জনের আশায় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে নদীর ধার থেকে এই ভারেঙ্গা পাতা কেটে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পাতাগুলো ভালো করে শুকিয়ে নিজের বাড়িতেই মজুত করে রাখেন।

গোটা বছর ধরে নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবারগুলোর মহিলা-পুরুষ সদস্যরা চাষবাস, দিনমজুরের কাজ করলেও অবসর সময়ে শুকনো ভারেঙ্গা পাতা দিয়ে পাটি তৈরি করতে বসে পড়েন। এরকমই এক পরিবারের সন্ধান মিলল ধনকৈল হাট সংলগ্ন এলাকায়।

ধনকৈল হাট এলাকার বাসিন্দা দুই ভাই সঞ্জিত দেবশর্মা ও রতন দেবশর্মা ৭ বছর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে কাজ করে পাটি তৈরিতে হাত পাকিয়েছে।

সারাবছর ধরে দিনমজুরের কাজ করলেও অবসর সময়ে ও কর্মহীন দিনগুলোতে বাড়তি লাভের আশায় দুই ভাই পাটি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

পাতাগুলোকে সাজিয়ে তৈরি করা হয় গ্রামবাংলার জনপ্রিয় পাটি। এই পাটিগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ ফিট চওড়া ও সাড়ে ৪ ফিট থেকে ৫ ফিট লম্বা হয়।

একটি মাদুর তৈরির পর অনেকটাই মোটা হয়ে যায়, সেজন্য পাটির দুই মাথার দিকে লম্বা বাঁশের কঞ্চি বেঁধে দেয়া হয়, যাতে দীর্ঘদিন পাটিটি ব্যবহার করলেও দুই ধারের ভারেঙ্গা পাতাগুলো খুলে না যায়।

এই পাটির ভালো চাহিদা উত্তর দিনাজপুর জেলাসহ বিহারের মতো ভিন রাজ্যের গ্রামগুলিতে। গ্রামগঞ্জের অনেক পাটিশিল্পী ধনকৈল হাটে এই পাটির পসরা সাজিয়ে বসেন।

পাইকারি হিসেবে ২২০ টাকা থেকে শুরু করে ২৩০ টাকা পর্যন্ত এই পাটি বিক্রি হয়, যা খুচরো কিনতে গেলে দাম পড়ে ২৫০ টাকা।