মেইন ম্যেনু

পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ছে

অষ্টম বেতনকাঠামোতে পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পাঁচ বছর থেকে ২৫ বছর করা হয়েছে। এটা আগে ছিল ১০ থেকে ২৫ বছর। এর ফলে কোনো ব্যক্তি চাকরিতে যোগদানের পাঁচ বছর পর থেকেই পেনশনের আওতাভুক্ত হবেন। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে আর্থিক পরিমাণও। পেনশনের হার সর্বশেষ আহরিত বেতনের ৮০ শতাংশের জায়গায় ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে।

সূত্র জানায়, সরকারি স্থায়ী চাকরিজীবীরা আগে চাকরিতে যোগদানের পর ১০ বছর অতিক্রান্ত না হলে পেনশন সুবিধা পেতেন না। কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতাজনিত কারণে চাকরি থেকে বাদ পড়লে চাকরির মেয়াদ ১০ বছর পূর্ণ না হলে তিনি বা তার পরিবার পেনশনসুবিধা পেতেন না। নতুন বেতন কাঠামোতে এ অবস্থার পরিবর্তন আনা হয়েছে। চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর হলেই তারা এ সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর উত্তীর্ণ হলে ২১ শতাংশ, ছয় বছর অতিক্রান্ত হলে ২৪ শতাংশ, সাত বছর হলে ২৭ শতাংশ, আট বছরের জন্য ৩০ শতাংশ, নয় বছর হলে ৩৩ শতাংশ এবং ১০ বছর অতিক্রান্ত হলে ৩৬ শতাংশ হারে একজন চাকরিজীবী পেনশনসুবিধা ভোগ করবেন।

123

আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী, চাকরির মেয়াদ ১০ বছর অতিক্রান্ত হলে তিনি ৩২ শতাংশ হারে পেনশন পেতেন। নতুন ব্যবস্থায় পাবেন ৩৬ শতাংশ হারে। বর্তমানে চাকরির মেয়াদ ১১ বছর অতিক্রান্ত হলে তিনি ৩৫ শতাংশের জায়গায় ৩৯ শতাংশ, ১২ বছর হলে ৩৮ শতাংশের স্থলে ৪৩ শতাংশ, ১৩ বছর হলে ৪২ শতাংশের জায়গায় ৪৭ শতাংশ, ১৪ বছর অতিক্রান্ত হলে ৪৫ শতাংশেন জায়গায় ৫১ শতাংশ হারে পেনশন পাবেন।

এ ছাড়া, চাকরির মেয়াদ ১৫ বছর অতিক্রান্ত হলে তিনি ৪৮ শতাংশের জায়গায় ৫৪ শতাংশ, ১৬ বছর হলে ৫১ শতাংশের স্থলে ৫৭ শতাংশ, ১৭ বছর অতিক্রান্ত হলে ৫৪ শতাংশের জায়গায় ৬৩ শতাংশ, ১৮ বছর হলে ৫৮ শতাংশের জায়গায় ৬৫ শতাংশ, ১৯ বছর অতিক্রান্ত হলে ৬১ শতাংশের জায়গায় ৬৯ শতাংশ, ২০ বছর অতিক্রান্ত হলে ৬৪ শতাংশের জায়গায় ৭২ শতাংশ, ২১ বছর অতিক্রান্ত হলে ৬৭ শতাংশের জায়গায় ৭৫ শতাংশ, ২২ বছর অতিক্রান্ত হলে ৭০ শতাংশের জায়গায় ৭৯ শতাংশ, ২৩ বছর অতিক্রান্ত হলে ৭৪ শতাংশের জায়গায় ৮৩ শতাংশ, ২৪ বছর অতিক্রান্ত হলে ৭৭ শতাংশের জায়গায় ৮৭ শতাংশ এবং ২৫ বছর ও তদূর্ধ্বে ৮০ শতাংশের জায়গায় ৯০ শতাংশ হারে পেনশন পাবেন।

সূত্র জানায়, একজন সরকারি চাকরিজীবী পাঁচ বছর থেকে ২৪ বছর পেনশনযোগ্য চাকরিকালে মৃত্যুবরণ করলে বা সরকারকর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড দ্বারা স্থায়ীভাবে অক্ষম ঘোষিত হলে এবং স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি থেকে ছাটাই হলে পেনশন পেয়ে থাকেন ।

চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে অবসরভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি ও র্সবনিম্ন পেনশন নির্ধারণ করেছে সরকার। অবসরভোগীর বয়স ৬৫ বছরের কম হলে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর ও তার ঊর্ধ্বে হলে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একজন পেনশনারের মাসিক পেনশনের পরিমাণ যাই হোক না কেন, ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে তিনি সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা পেনশন পাবেন। এ ছাড়া পেনশনযোগ্য চাকরিকাল সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে পাঁচ বছর কমিয়ে আনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণ পেনশনের ক্ষেত্রে আনুতোষিকের হার সমর্পিত এক টাকার বিপরীতে ২৩০ টাকা অপরিবর্তিত রেখে এ হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রেখে পাঁচ বছর থেকে নয় বছর চাকরিকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে নতুন সংযোজন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আনুতোষিকের হার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

sdf

চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়া অথবা চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে মৃত্যুবরণকারীর পরিবারকে এককালিন বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত এককালিন ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর কিংবা তার অংশ বিশেষের জন্য তার শেষ আহরিত তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে তিনি অথবা তার পরিবার এককালিন বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন।

প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী আজীবন পারিবারিক পেনশন পেয়ে থাকেন। বিধবা স্ত্রী যদি এ মর্মে অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দেন যে, তিনি পুনঃবিবাহ করবেন না, তাহলেই কেবল তিনি আজীবন পেনশনসুবিধা ভোগ করবেন। তবে ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে একজন মৃত মহিলার বেসামরিক কর্মচারী স্বামী পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হলে, বিধবা স্ত্রীর পারিবারিক পেনশন প্রাপ্য হবেন। তবে প্রচলিত সব বিধি অনুসরণ করে বিপত্মীক স্বামী সর্বাধিক ১৫ বছর পর্যন্ত পারিবারিক পেনশন পাবেন।

অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে ১২ মাসের ছুটি নগদায়নের বিধান পরিবর্তন করে ১৮ মাসর ছুটি নগদায়ন অর্থাৎ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। আবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনে ছুটিতে রূপান্তরিত করা যাবে। অবসরকালিন মূল বেতনের ভিত্তিতে ওই নগদায়ন সুবিধা অবসরোত্তর ছুটির শুরুতে পাবেন। অবসরোত্তর ছুটি ভোগ না করলেও এ আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।-রাইজিংবিডি