মেইন ম্যেনু

পোরশায় বেড়েই চলেছে ছিনতাইঃ নজরদারী নেই পুলিশের

সালাউদ্দীন আহম্মেদ, পোরশা, (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পোরশায় দিন দিন বেড়েই চলেছে ছিনতাই ও মারপিট করে ডাকাতির ঘটনা। দিনের পর দিন পথচারী, ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে, প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে ডাকাতরা।

উপজেলার সরাইগাছী মোড় থেকে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার ভিতরে আড্ডা প্রধান সড়কের তাইতোড় ও ব্যাজড়ার মোড় নামক স্থানটি ডাকাতদের প্রধান আখড়া বলে জানায় স্থানীয়রা। প্রতিদিন সন্ধ্যা নেমে এলেই উঁৎ পেতে বসে থাকে ১৫/২০ সদস্যের একদল ডাকাত। মুখ অন্ধকার হওয়া মাত্রই ভটভটি, মটরসাইকেল, মাইক্রো সহ যেকোন পথচারীকে রাস্তার গাছ কেটে ফেলে বাধা দেয়। বড় বড় হাসুয়া, ছুরি, বল্লম, এমনকি পিস্তল দেখিয়ে টাকা পয়সা কেড়ে নেই পথিকের। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। বিশেষ করে শনিবার, সোমবার, ও বুধবার হাটের দিন গুলোতে ছিনতাইয়ের স্বীকার হন সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় আবারো গতকাল সোমবার সন্ধে সাড়ে ৭টায় নিয়ামাতপুর উপজেলার ছাতড়া হাট থেকে গরু কেনা বেচা করে বাড়ি ফেরার সময় ৫/৬জন ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারপিট ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই করে নেয় ডাকাতরা। ব্যবসায়ীরা হলো, পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউপির চকবিষ্ণপুর গ্রামের মোঃ তোজাম্মেল হক তোজু (৪৫), বিষ্ণপুর পুলিশপাড়া গ্রামের মৃতঃ আব্দুল লতিফের ছেলে আকবর আলী (২৫), বিষ্ণপুর বটতলী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম (৩৬) এবং একই গ্রামের হাবিবুর রহমান (২৬), আশরাফুল ইসলাম (৪০), তোফিকুল ইসলাম (৩৫)। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী তোজু, ড্রাইভার মাহফুজ ও আকবর আলী টাকা দিতে না চাওয়াই ডাকাতরা তাদের বেধড়ক মারপিট করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় আকবর আলীর মাথায় ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। আবকর আলীর অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়াই তাড়াতাড়ি করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স-এ ভর্তি করানো হয়। আকবর আলী জানান,- ছাতড়া হাট থেকে গরু বেচা কেটা করে ৬/৭জন গরু ব্যবসায়ী ভটভটি যোগে বাড়ি ফিরছিলাম। আমাদের গাড়িতে ছিলো ৩টি গরু আর সবার কাছে গরু বিক্রি করা প্রায় দুই লক্ষাধীক টাকা। সন্ধে সাড়ে ৭টার সময় শিবপুর রোড হয়ে এসে ব্যালট পার হয়ে গইনপুরের কাছাকাছি পৌঁছলে ডাকাত দলের একটি চক্র অটো চার্জার নিয়ে আমাদের গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করে। বলে, সামনের গাড়িতে ডাকাত পড়েছে, এখন যাওয়া যাবেনা। আপনারা কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন। নইলে বিপদে পড়বেন। অপরদিকে তাদের আরেকটি চক্র ৪/৫টা ভটভটি ০১ কিলোমিটার দূরে ফাঁকা মাঠে একই কথা বলে আটকিয়ে রেখেছে। আমরা অটো ড্রাইভারের কথা না শুনে অবস্থা বেগতিক দেখে ভটভটি চালককে তাড়াতাড়ি করে গাড়ি চালানোর কথা বলি। ইতিমধ্যেই ১৫/২০জন ডাকাত বড় বড় হাসুয়া, বল্লম আর কানালাগা বাশঁ দিয়ে মারতে শুরু করল আমাদের। বলে, টাকা দে নাতো মেরেই ফেলবো। দশ জন মিলে মাথার উপর হাসুয়া ধরে থাকে আর অন্যরা আমাদের সবার কাছ থেকে টাকা বের করে নিয়ে নিল।

এর আগে ২৭ জুলাই বুধবার ধামইর হাট উপজেলার মালাহার গ্রামের সামাদের ছেলে গরু ব্যবসায়ী বাবু সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রায় ২০লক্ষ টাকা ছিনতাই করে এবং বেধড়ক মারপিট করে ডাকাতরা। পাশাপাশি একই স্থানে একের পর এক এমন ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকার মানুষ। তাদের অভিযোগ, পুলিশ যদি সন্ধ্যার পর ঐ জায়গাটিতে একবার করে টহল দেয় তাহলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘেœ চলাফেরা করতে পারবেন। এঘটনায় পোরশা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মাহবুব আলমকে ফোন দিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।