মেইন ম্যেনু

পৌরসভা নির্বাচনঃ অংশ নিতে চায় বিএনপি, শঙ্কা ‘পরিবেশ’ নিয়ে

চলতি বছরের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি। কিন্তু দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ‘নির্বাচনী পরিবেশ’ নিয়ে। এ ছাড়া দলের অধিকাংশ নেতা পলাতক কিংবা জেলখানায় থাকায় ‘যোগ্য প্রার্থী’ সংকটেরও আশঙ্কা করছে দলটি।

গত এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে ১৮০ জনেরও বেশি মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীকে গ্রেপ্তারের ফলে দলটি আরো গভীর সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন ‘আগ্রাসী’ উদ্যোগে সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

তবে বিএনপির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতারই মত, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির অবশ্যই অংশ নেওয়া উচিত। কোনোমতেই সরকারকে আর ‘খালি মাঠে গোল’ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

বিএনপির মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা ইউএনবির সঙ্গে আলাপচারিতায় জানান, পৌর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে দলের হাইকমান্ডের আরেকবার ভাবা উচিত। কারণ, সিটি নির্বাচনের মতো দেশের সব পৌর এলাকায় বিএনপির অবস্থান ততটা সুসংহত নয়।

নেতারা আরো জানান, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা তো আর সরকারে পরিবর্তন আনতে পারবেন না। বরং স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয়তায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা তাঁদের ওপর প্রতিশোধ নেবেন।

তবে, এসব ‘প্রতিশোধপরায়ণতা’ বিএনপির আগামী দিনের পাথেয় হবে বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, সরকারের ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ ফলে বিএনপি আন্তর্জাতিক মহল ও জনগণের আরো বেশি সহানুভূতি পাবে এবং জনগণের আরো কাছে পৌঁছাতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাইস চেয়ারম্যান পদমর্যাদার এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘দেশের সাধারণ জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহল কেউই নির্বাচন বর্জনকে ভালোভাবে নেয়নি। সমর্থকদের কাছে এটি হতাশার সৃষ্টি করেছে এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মনোবল প্রায় ভেঙে দিয়েছে। তাই তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।’

জ্যেষ্ঠ ওই বিএনপি নেতা আরো জানান, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও দলের সাবেক সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরো জানান, জোটের শরিকদের সঙ্গেও কিছু আসন ভাগ করা হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফেরার পর পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী।

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও বাধার পরও সারা দেশে প্রার্থী নির্বাচন অসম্ভব নয় বলে মনে করেন নোমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং আমাদের অনেক বিকল্প প্রার্থী আছে।’

ইউএনবির সঙ্গে আলাপচারিতায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তৃণমূলসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তৈরি হয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘এখন কেবল চেয়ারপারসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে বিএনপি।’

শামসুজ্জামান দুদু আরো বলেন, বিএনপি যাতে নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে সে জন্য সরকার বেপরোয়াভাবে দমননীতি চালাচ্ছে। কারণ সরকার ভালোমতোই জানে, অপকর্ম, দুঃশাসন আর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট ছিনতাইয়ের পর বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোট দেবে না।

জনগণই সব ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে দুদু আরো বলেন, এবারও যদি সরকার ভোট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে, তাহলে প্রতিটি পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।